বিকেলের মৃদু বাতাস, সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য আর নৌভ্রমণের আনন্দ, রাজশাহীবাসীর বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ পদ্মা নদী। কিন্তু এ সৌন্দর্যের আড়ালেই ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে পদ্মা। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, গত এক দশকে রাজশাহীর পদ্মায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নৌকাডুবি, গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া কিংবা স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে পড়ে ঘটেছে এসব মৃত্যু। অথচ দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো প্রশ্নের মুখে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরে পদ্মায় ৬১টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ৭০ থেকে ৭১ জনের। এর মধ্যে রাজশাহীতেই ঘটেছে ৪০টি নৌকাডুবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩টি, পাবনায় পাঁচটি এবং নাটোরে তিনটি।
দুর্ঘটনার পেছনে বারবার উঠে এসেছে একই চিত্র, ছোট নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী, লাইফ জ্যাকেটের ঘাটতি, নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব, অদক্ষতা এবং বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে নদীতে চলাচল। বর্ষায় পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত তীব্র হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে।
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগরে পদ্মায় ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আবারও সেই ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে এনেছে। গত ২৮ আগস্ট চর-চাকলা গ্রামে নদীতে ডুবে মারা যায় পাঁচ শিশু।
স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা থাকলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টি-বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌভ্রমণে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হলেও নিয়মিত নজরদারি নেই। জেলেদেরও অনেক সময় লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই উত্তাল নদীতে মাছ ধরতে হয়।
নদীকে নিরাপদ রাখতে শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান নয়, আগেই ঝুঁকি ঠেকানোর ব্যবস্থা জরুরি। নৌযানের ধারণক্ষমতা নির্ধারণ ও তা মানা, লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা, মাঝিদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানো না হলে পদ্মার সৌন্দর্য কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।
কেকে/এআই