ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর প্রতিনিধিত্ব করতে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের একঝাঁক তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সময়ই রাজনৈতিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাঁধন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় এ অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তার সঙ্গে হেনস্তার দৃশ্য দেখা যায়।
বাঁধনের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনকে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী জঙ্গিকে ধরেছি।’
ঘটনার পর বাঁধনকে তার ভাই নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।
বাঁধন বলেন, “তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে একটি পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাংলাদেশি এসে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারা হয়। এমনকি তার সঙ্গে থাকা ভাইয়ের ছোট শিশুটিও ঘটনাস্থলে ছিল বলে জানান তিনি।”
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তার গায়ে হাত তোলার পাশাপাশি তার ফোন ফেলে দেন এবং কানের কাছে আঘাত করেন।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বাঁধন বলেন, “তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তার দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন।” পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও আপলোড করা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বাধন বলেন, “তিনি বাংলাদেশ থেকে যে সিনেমাটি নিয়ে সেখানে গেছেন, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। যার বাবা আওয়ামী লীগের একজন সম্মানিত মন্ত্রী ছিলেন।” তার ছেলের সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনের পরই কাজ করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, “এ ধরনের আচরণ থেকে তাদের বের হয়ে আসা উচিত ছিল।” এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর ভেনিসের একটি থানায় বাঁধন অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সেই সময়ের ভূমিকার কারণেই ভেনিসে তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেকে/সাশ