ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে রুবাইয়াত হোসাইন পরিচালিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। সিনেমাটির প্রদর্শনী ঘিরে ভেনিসে অবস্থান করছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামালসহ সিনেমাটির কলাকুশলীরা।
চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে তারকাদের ব্যস্ততা ও আনন্দের নানা মুহূর্তের ছবি নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমার এমন উপস্থিতিতে গর্বের কথাও জানিয়েছেন তারা।
তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সিনেমাটির অন্যতম অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ভেনিসে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বাঁধনের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তার ওপর হামলা ও হেনস্তা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিতে এবং নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ হিসেবে পরিচয় দিতে শোনা যায়।
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ভাইয়ের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুও সেখানে ছিল বলে জানান তিনি। এমনকি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত এবং তাঁর ফোন ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এই অভিনেত্রী।
ঘটনার পর বাঁধনের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন দেশের দুই পরিচিত তারকা—অভিনেত্রী ও আইনজীবী জান্নাতুল পিয়া এবং অভিনেত্রী পরীমনি।
জান্নাতুল পিয়া এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মানুষ দিন দিন বিশেষ করে নারী ও শিল্পীদের প্রতি কতটা নিষ্ঠুর ও অসংবেদনশীল হয়ে উঠছে, বিষয়টি তাকে ভাবায়। দেশের বাইরে গেলেই মানুষের চিন্তাভাবনা বদলে যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মানুষ অন্যকে কতটা সম্মান, বোঝাপড়া ও মানবিকতা দেখাতে পারে—সেখানেই প্রকৃত উন্নতির পরিচয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দুঃখজনকভাবে এই জায়গাগুলোতেই মানুষ যেন ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে, বাঁধনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীমনি। এক পোস্টে তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, কিছু মানুষ রাস্তায় চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও তাদের কাছে মানুষের কষ্ট বা কান্নার কোনো মূল্য নেই।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে বাঁধনের হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কেকে/সাশ