ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৎপরতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি, ধারাবাহিক বৈঠক ও নির্দেশনায় বিভিন্ন খাতে তৎপরতা দৃশ্যমান। কিন্তু তার সরাসরি নজরদারির বাইরে থাকা অনেক মন্ত্রণালয়ে বড় সমস্যা সমাধানে নিজস্ব উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত সাত মাসে দফায় দফায় সচিব বদলের কারণে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে। একইসঙ্গে নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসনের মধ্যম স্তরের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তার একটি অংশ এখনো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের মানসিকতা থেকে বের হতে পারেননি। ফলে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে তারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের কর্মকর্তারা সরকারের জন্য ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়সীমা দেওয়া হয়। অর্থনীতি, ব্যাংকিং, রাজস্ব, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের দীর্ঘদিনের সংকটের বিপরীতে অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা, সভা ও পর্যালোচনার বাইরে দৃশ্যমান বাস্তবায়ন কম। সরকারের সাত মাসের কর্মযজ্ঞে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সচিবদের দক্ষতা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জোরাল হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পাওয়া, রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগ থাকা এবং বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। বিভিন্ন সময় এসব কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘসময় ধরে প্রশাসনের একটি অংশ রাজনৈতিক সরকারের স্বার্থে কাজ করেছে এবং এর মাধ্যমে যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি-পদায়নে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ওএসডি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে শুধু ওএসডি বা অবসর নয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দুর্নীতির তদন্ত এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করাই প্রশাসন সংস্কারের মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাত মাসে দফায় দফায় সচিব বদল
বিএনপির সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সচিব পর্যায়ে ২০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এ সময়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে একাধিকবার সচিব বদল হওয়ায় পরিবর্তনের সংখ্যাও কম না। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সচিব পর্যায়ে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝে নিতে সময় দিতে হয়, যার প্রভাব নিয়মিত কাজের গতিতেও পড়ে।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মার্চে একসঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ, প্রবাসী কল্যাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন, মৎস্য ও আইসিটি খাত অন্যতম। এপ্রিলেও খাদ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সচিব পরিবর্তন হয়। মে মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব পদে পরিবর্তন আসে।
জুনে শিল্প মন্ত্রণালয়ে সচিব পরিবর্তন করা হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আগের সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়। আগস্টে আবার বড় রদবদলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে নতুন সচিব দেওয়া হয়। একই মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসে। মার্চে নিয়োগ পাওয়া ইয়াসমিন পারভীনকে সরিয়ে রওশন আরা বেগমকে সচিব করা হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন হয়েছে।
পুরোনো মডেলেই সচিবালয়
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হয়। এরপর অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনে মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়। কিন্ত সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন দৃশ্যমান নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রণালয়গুলোতে এখনো প্রচলিত নিয়মে ফাইল নিষ্পত্তি, সভা, পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত গতি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট মোকাবিলায় শুধু নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন।
সিদ্ধান্তের চেয়ে বদলি বেশি
প্রশাসনসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার মতে, সচিব পরিবর্তন প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও একই মন্ত্রণালয়ে ঘনঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন সচিবকে দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার, চলমান প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম বুঝতে সময় দিতে হয়। এতে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্যে একটি সময়ের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
সাবেক একাধিক আমলার মতে, একজন সচিবের প্রধান দায়িত্ব শুধু নথিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীতি ও অগ্রাধিকারকে প্রশাসনিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় করা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকিও তার দায়িত্বের অংশ। ফলে সচিব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু পদায়ন নয়, দায়িত্বের ধারাবাহিকতা ও কর্মসম্পাদনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
নির্দেশনায় গতি, বাস্তবায়নে ধীরগতি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো খাত নিয়ে সরাসরি নির্দেশনা এলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো দ্রুত তৎপর হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে যাওয়ার গতি তেমন দৃশ্যমান নয়।
প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে সমস্যা চিহ্নিত করা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া প্রশাসনিক
নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, পদায়ন এবং নীতিগত অবস্থান নির্ধারণে সময় গেছে। ফলে এখন সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর নিজস্ব উদ্যোগ ও সমন্বিত কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
তাদের মতে, কোনো খাতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা এলে দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের দায়িত্বাধীন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানেও আগাম উদ্যোগ নিলে প্রশাসনের কার্যকারিতা আরও বাড়বে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে অসন্তোষ
চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের নিয়োগ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে। এতে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও অসহযোগিতার মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনে নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি হয়। ১০, ১৫ বা ২০ বছর চাকরি করা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মতৃপ্তি কমে যেতে পারে।
তাদের মতে, বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বন্ধ করা উচিত। কারণ এ ধরনের নিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরকারের জন্য তা বুমেরাং হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে খুব ব্যতিক্রমী ও জরুরি বিবেচনায় করা যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে হচ্ছে, এটা বন্ধ করা দরকার। তাহলে ভবিষ্যতে প্রশাসনে সরকারের আরও বেশি অসহযোগিতার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
সংকট আছে, দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই
বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতি, ব্যাংকিং, রাজস্ব, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে একাধিক সংকট রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও সুশাসনের সমস্যা, রাজস্ব আদায়ে চাপ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এসব সমস্যা নতুন নয়। ফলে ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সময়সীমাবদ্ধ সমাধান পরিকল্পনা নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বাইরে বড় ধরনের উদ্যোগের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। এতে সচিবদের দক্ষতার পাশাপাশি উদ্যোগী নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সরকারের প্রায় সাত মাস পার হলেও আমলাদের বড় একটি অংশ এখনো বিএনপি সরকারের কাজের সংস্কৃতি রপ্ত করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আড়াল করার প্রবণতা, ফাইল আটকে রাখা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির মাধ্যমে সরকারের কাজে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হবে, কিন্তু যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সাইফুল হক বলেন, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমে আমলাতন্ত্রের বড় অংশের মধ্যে এখনো আগের কাজের সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক মন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে আমলাদের কারণে কোনো কোনো ফাইল আটকে আছে এবং ফাইলের গতি ধীর করে দেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন এমন কাজ ও প্রকল্পও বিলম্বিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে।
সাইফুল হক বলেন, আমলাতন্ত্রের একটি বড় সমস্যা দীর্ঘসূত্রতা। তবে কোনো কর্মকর্তা কোন রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শকে সমর্থন করেন, সেটি তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মুখ্য হওয়া উচিত নয়। কেউ কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করতে পারেন। এটা নিয়ে আমার বড় ধরনের আপত্তি নেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো, যখন তিনি একটি পেশাগত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তখন তার পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং নিরপেক্ষ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করাই প্রধান বিষয়।
সরকারের কাজে প্রশাসনের কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতি তৈরি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, আরেকটা তাদের রাজনৈতিক চিন্তার জায়গা থেকেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারকে রোধ করার কোনো প্রচেষ্টা আছে কি না, এগুলো গভীরভাবে নজরদারিতে আনা দরকার।
তবে একই সঙ্গে মন্ত্রীদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, কোনো কোনো মন্ত্রীর নিজ নিজ মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, পড়াশোনা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়।
কেকে/ এমএস