আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পর দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেলের পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। এর আগে আগের সেশনেও দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনেও এর দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবে নতুন করে হামলা চালায়। একই সময়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া এবং বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে হুথিরা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হুথিদের দাবি, হামলায় বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবেও হামলা হয়। রিয়াদ এ হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি যোদ্ধাদের দায়ী করেছে। ওই হামলায় সৌদির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, নতুন প্রতিটি হামলা বা অবকাঠামোয় আঘাতকে তেল ব্যবসায়ীরা সরবরাহের জন্য বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বা হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিতের প্রতিও তারা গভীরভাবে নজর রাখছেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে দিনে ১০টির নিচে নেমে আসে। যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল দিনে ১৪টি। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
সৌদি ক্রেতা ও তেল ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানির জন্য মজুত তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাজার থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রেড সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়। এই পরিমাণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
টিম ওয়াটারার বলেন, বর্তমানে তেল ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের কারণে সরবরাহ কমে গেলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার জানিয়েছেন, জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে সমর্থন করতে প্রস্তুত কিয়েভ। তবে এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে নিশ্চিত করতে হবে যে মস্কো সত্যিকার অর্থেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত।
সূত্রঃ রয়টার্স
কেকে/সাশ