জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে গাজীপুরের কাপাসিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় মেশিন টুলস অপারেশন, সিভিল কনস্ট্রাকশন ও অটো ড্রাইভিং—গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ট্রেডের কার্যক্রম প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অনুমোদিত ৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩১ জন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, বর্তমানে কেন্দ্রে সাতটি ট্রেড চালু রয়েছে। এসব ট্রেডে প্রায় ৫০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বছরে সর্বোচ্চ ৬৭২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রটির।
মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটই তিনটি ট্রেড বন্ধ থাকার প্রধান কারণ। বন্ধ ট্রেডগুলো চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে আগামী এক মাসের মধ্যে বন্ধ থাকা ট্রেডগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনবল সংকট সামাল দিতে বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৩ জন কর্মরত আছেন। তাদের দিয়েও প্রশিক্ষকের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বর্তমানে তিনটি ল্যাব বা ওয়ার্কশপ বন্ধ কিংবা অচল রয়েছে।
মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ এবং বন্ধ থাকা ট্রেডগুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাপাসিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবছর শত শত তরুণ এখানে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ, বন্ধ থাকা তিনটি ট্রেড চালু এবং অচল ল্যাব-ওয়ার্কশপ সচল করা হলে এ অঞ্চলের বেকার তরুণদের দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
কেকে/ এমএস