নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার অলিপুরা বাজারে পাঁচটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বর্ণ-রুপা, নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের দিকে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল অলিপুরা বাজারে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা বাজারের পাহারাদারদের আটক করে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেয়। পরে একে একে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে লুটপাট চালায়।
ডাকাতির শিকার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— নবরূপা জুয়েলার্স, কাকন স্বর্ণ শিল্পালয়, জজ মিয়া স্টোর, শামীম ইলেকট্রনিকস ও ইসলাম ফার্মেসি।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নবরূপা জুয়েলার্স থেকে আনুমানিক ৪০ ভরি রুপা ও ১ ভরি স্বর্ণ লুট হয়েছে। কাকন স্বর্ণ শিল্পালয় থেকে ৫ আনা স্বর্ণ ও ১৫ ভরি রুপা নিয়ে গেছে ডাকাতরা।
এ ছাড়া জজ মিয়া স্টোর থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সিগারেট, কিছু প্রসাধনী ও সয়াবিন তেল লুট করা হয়েছে। শামীম ইলেকট্রনিকস থেকে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং ইসলাম ফার্মেসি থেকে একটি স্মার্টফোন ও প্রায় ১ হাজার টাকা নগদ লুট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা।
নবরূপা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী ইমাম বলেন, “রাতের দিকে ডাকাতরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণ ও রুপা নিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ ভরি রুপা লুট হয়েছে বলে ধারণা করছি। এতে আমার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমরা দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
ডাকাতির ঘটনায় অলিপুরা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাজারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ