পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পরিবেশ সংবেদনশীল গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক জলাশয় ঘেঁষে কাঠের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কুয়াকাটার অদূরে উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম পাশে গঙ্গামতি লেকসংলগ্ন এলাকায় গত চারদিন ধরে এ নির্মাণকাজ চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লেক ও জলাশয়ের পাশে কাঠের স্থাপনা নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে খুঁটি বসানো হয়েছে। কাঠের পাটাতন তৈরির কাজও চলছিল। সংরক্ষিত সবুজ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘেঁষে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও স্থাপনাটি কে বা কারা নির্মাণ করছেন, তা নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে স্থাপনাটি নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, “গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল একটি পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের আশপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করা হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এতে বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা তৈরি হবে। কুয়াকাটা সৈকত এলাকা রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা থাকলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
পরিবেশকর্মী মেজবাহ্ উদ্দিন মাননু বলেন, “পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় এভাবে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল, প্রাকৃতিক জলাশয় ও পর্যটন এলাকার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে।”
গঙ্গামতি বিটের বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “স্থাপনা নির্মাণের প্রথম দিনই আমি বাধা দিয়েছি। কিন্তু তারা নিজেদের জমি দাবি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তবে নির্মাণাধীন স্থাপনার জন্য বনবিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, “বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ