গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে আফসার উদ্দিন (৩৩) নামের যুবককে লোহার রড, লাঠি ও সোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের চৌড়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।
ঘটনায় ভুক্তভোগী আফসার উদ্দিনের বোন মোছা. আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিদের জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সোমবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে আফসার উদ্দিন বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে চৌড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে লোহার রড, লাঠি ও সোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
অভিযোগকারী আরও বলেন, হামলাকারীদের হাত থেকে থাকা লোহার রড দিয়ে আফসার উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়। তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে পিঠে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ হাজার টাকা, নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আফসার উদ্দিনকে রক্ষার জন্য তার মা, বোন ও পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় এবং যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আহত আফসার উদ্দিনসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগকারী জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন সদস্যদের অবগত করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পুলিশের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কেকে/এআই