মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের প্রাণহানি      আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ জানাবে ইসি      সিলেট পৌঁছে মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি      মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের সম্পর্ক নেই : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা      শিক্ষায় আমরা বিশ্বে প্রথম হতে চাই : শিক্ষামন্ত্রী      ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড      শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা      
দেশজুড়ে
সরকারি সভায় ফ্যাসিস্ট নেতার উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও বিতর্ক
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ–সরকারি সভায় ফ্যাসিস্ট দলের পদধারী নেতাকে উপস্থিত রাখার পেছনে ‘ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের’ চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার আমন্ত্রণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা বর্জন করেছেন জুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেল।

জানা যায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জুড়ী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা চলাকালে জুড়ী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সিরাজুল ইসলাম জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাব নামে একটি সংগঠনেরও সভাপতি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মূল প্রেস ক্লাবের পাশাপাশি ওই সংগঠনের সভাপতিকেও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হলেও সোমবার নতুন করে সিরাজুল ইসলামকে আবারও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ওই সভায় সিরাজুল ইসলামকে উপস্থিত থাকতে দেখে জুড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেল তাৎক্ষণিক আপত্তি জানান। তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে একাধিক প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে সদস্য করার বিধান নেই। এ সময় তিনি ইউএনওর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তার ভাষ্যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের অঙ্গসংগঠন একজন পদধারীকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কমিটির সভায় যুক্ত করে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতও এ কমিটিতে আছে। সরকার থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য। প্রজ্ঞাপনে যা-ই থাক, আমি নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি এটা করেছি।’ 

এমপির এমন বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক সভা বর্জন করেন সাংবাদিক তানজির আহমেদ রাসেল। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে দেশের উপজেলাগুলোর আইনশৃঙ্খলা কমিটি সংশোধন ও পুনর্গঠনের বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে আইনশৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠনের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। 

এ ঘটনায় জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবন্দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় ফ্যাসিস্ট দলের পদধারী নেতাকে আমন্ত্রণ করায় এটা প্রতিয়মান হয় যে, সরকারি নির্দেশনা ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। 

জুুড়ী প্রেস ক্লাব সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেলের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাব নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করতেন। ওই সংগঠনের সভাপতিকেও তখন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। 

গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের পদধারী ব্যক্তিদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। 

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কেএম ইয়াসির আরাফাত জানান, একই পদের একাধিক ব্যক্তিকে সদস্য করার সুযোগ নেই এবং ইউএনওর সরকারি নির্দেশের বাইরে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। 

সিরাজুল ইসলামকে কেন সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলো–এ প্রশ্নে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, ‘জুড়ীতে দুটি প্রেস ক্লাব রয়েছে। একটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আগে থেকেই কমিটিতে ছিলেন। এমপির নির্দেশে অন্য প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’ 

জুড়ী-বড়লেখা আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, সিরাজুল ইসলামকে দলীয় পরিচয়ে নয়, প্রেস ক্লাব সভাপতি হিসেবে ডাকা হয়েছে এবং সবাইকে নিয়ে চলার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। 

তবে এমপির এ দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ। তিনি জানান, সরকার থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, যারা বিগত দিনে মানুষের জানমাল ও ইজ্জত ধ্বংস করেছে, তারা এখন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বা সরকারি সভায় অংশগ্রহণ করে কীভাবে? 

জুড়ীর বর্তমান ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে–একই কমিটিতে একাধিক প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাকে কোন পরিচয়ে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার   সরকারি সভা   ফ্যাসিস্ট নেতা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close