জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে সেরা ফলাফল অর্জন করে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আনিছা আক্তার লাবনী। তিনি সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯৭ পেয়ে তিনি এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী তার হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছরের ফলাফলের ভিত্তিতে স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এবার ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।
লাবনী মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে গণিত বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দানিস্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি এখন টেলিভিশন, দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও দৈনিক খবরে কাগজ পত্রিকার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধির সহধর্মিণী।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আনিছা আক্তার লাবনী বলেন, ‘এ অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। আমার শিক্ষক, পরিবার ও স্বজনদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহফিল খান বলেন, ‘আনিছা আক্তার লাবনীর এ অর্জনে আমরা গর্বিত। ২০১৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত তার ফলাফল আমাদের কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ হওয়ায় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এ স্বীকৃতি আমাদের কলেজের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। আমরা তার আরও সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের মোট ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
কেকে/এআই