নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবরেটরি সেবায় জনবলসংকট দেখা দিয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তিনটি পদে পদায়ন থাকলেও কর্মরত আছেন দুজন। অপর একজন জয়পুরহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক সময় দুপুর ১২টার পর নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আতিকুর রহমান লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নপ্রাপ্ত। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাট আইএইচটিতে প্রেষণে কর্মরত। তার বেতন-ভাতাও লালপুর থেকেই দেওয়া হয়। এতে কাগজে তিনজন টেকনোলজিস্ট থাকলেও বাস্তবে ল্যাবে দায়িত্ব পালন করছেন দুজন।
হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আতিকুর রহমানের বাড়ি নওগাঁয়। অতীতে তিনি বাড়ি থেকেই অফিস করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ার পর নিয়মিত যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়লে প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে নিয়মিত বদলির পরিবর্তে তাকে প্রেষণে পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এ বিষয়ে আতিকুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টিকে ‘গোপনীয় ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেন।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নেন। তাদের অনেককেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র দুজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে এই বিপুলসংখ্যক রোগীর ল্যাবসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ল্যাবসংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় বেলা ১২টার পর নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক রোগীকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। একই দিনে রিপোর্ট না পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেও বিলম্ব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আতিকুর রহমান প্রেষণে থাকায় লালপুরের পদটি শূন্য দেখানো হচ্ছে না। ফলে ওই পদে নতুন টেকনোলজিস্টও নিয়োগ বা পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁকে নিয়মিত বদলি করা হলে পদটি শূন্য হবে এবং সেখানে নতুন জনবল পদায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, “ল্যাবে টেকনোলজিস্টদের রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজন প্রেষণে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কাউকে নতুন করে পদায়নও করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”
কেকে/সাশ