গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এতে ব্যাহত উৎপাদন কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরতে শুরু করেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে শিল্পকারখানাগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিল্পকারখানার উৎপাদন পরিস্থিতি ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরবরাহ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। এ সময় তিনি স্প্যারো ফ্যাশন, ডিবিএল গার্মেন্টস, পল্লী বিদ্যুতের জয়দেবপুর গ্রিড এবং তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যায়। এতে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে আগে সরবরাহ পাওয়া যেত প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। ফলে সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গ্যাসের চাপ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, লোডশেডিং এবং কারখানার উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পল্লী বিদ্যুৎ ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, শিল্পখাতের উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। তৈরি পোশাক, ডায়িং, স্পিনিং ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতের বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা রয়েছে এ জেলায়। এসব কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা।
তাদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহের অনিশ্চয়তাও দূর হবে।
কেকে/ এমএস