চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে প্রশাসনিক তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা ভেঙে তিনি যোগদান করেন। নিয়োগ পাওয়ার ২০ দিন পর দায়িত্ব নিলেন তিনি।
এর আগে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাদের বিক্ষোভ ও বিরোধিতার মুখে নতুন উপাচার্য শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিন তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠান।
নিয়োগের খবর প্রকাশের পর ওই দিন রাতেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান। এ সময় উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়।
পরে একই দাবিতে শাটডাউন, গণঅবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কেন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক সায়েম তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন, বিভিন্ন সমস্যা শুনতেন এবং সমাধানে উদ্যোগ নিতেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
তাদের ভাষ্য, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি শুধু তার স্বল্প সময়ের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের গড়ে ওঠা সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেও তাঁরা এ দাবি জানাচ্ছেন।
কেকে/সাশ