কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। তাদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারী প্রদীপ কান্তি দে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি ও খতিয়ানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ এবং কয়েকজন দালালের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে।
তাদের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিজের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বারবার অফিসে যাতায়াত করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
সম্প্রতি উখিয়া অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জসিম আজাদ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “উখিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন কে এই প্রদীপ?”
পোস্টটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
জসিম আজাদ জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়।
তার ভাষ্য, কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সেবাপ্রার্থী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। বরং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
তিনি দাবি করেন, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার পরে বেশ কিছুক্ষণ ভূমি অফিসে অবস্থানকালে প্রদীপ কান্তি দে, তার পাশের ডেস্কে বসা হাশেম এবং কয়েকজন দালালের মধ্যে বিভিন্ন কাজের চুক্তি ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত কথাবার্তা তিনি নিজে দেখেছেন ও শুনেছেন।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বয়োবৃদ্ধ সেবাপ্রার্থী কামাল। তার অভিযোগ, দালালের সহায়তা ছাড়া খতিয়ানের জন্য আবেদন করায় তাকে ছয় মাস ধরে সপ্তাহে প্রায় দুইবার ভূমি অফিসে যেতে হয়েছে।
কামালের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরে বাধ্য হয়ে দালালের সহায়তা নিলে ছয় মাস পর তার খতিয়ানের কাজ সম্পন্ন হয়।
আরেক সেবাপ্রার্থী সৈয়দ আমিন অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না।
তার দাবি, দালালদের মাধ্যমে গেলে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়।
সৈয়দ আমিনের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের আচরণ ও সেবা পাওয়ার জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্রমেই দালালনির্ভর হয়ে পড়ছেন।
উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং দালালনির্ভর সেবাব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং সরকারি ফির তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রদীপ কান্তি দে বলেন, ‘‘স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন।’
তিনি দ্রুত ফোলকল কেটে দেন।
এ নিয়ে উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মো. আবু আবদুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ