সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে তার চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে এক সুরক্ষিত প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এই পরিস্থিতি সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তরের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত সপ্তাহে একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তার চলাচল সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হুতি হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় তাকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন প্রাসাদে রাখা হচ্ছে। এসব স্থাপনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বাংকারও তৈরি করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যুবরাজের নিরাপত্তায় বিশেষ একটি দলও নিয়োজিত রয়েছে। পরিস্থিতি দেশটির নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
হামলায় আহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টও ছিলেন। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামলায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরে তার মৃত্যু হয়।
বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে সেখানে চারবার হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার জবাবও সমানভাবে কঠোর হতে পারে।
অন্যদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও চাপের মুখে পড়তে পারে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য খাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরব বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে তেল রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে। তবে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা দেশটির নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সৌদি আরবের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ হাজির করেছে। সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা সচল রাখাই এখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য বড় পরীক্ষা।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
কেকে/সাশ