মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরবে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্টে পৌঁছায়। খবর আলজাজিরার।
এর আগে, মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ৬৯ সেন্টে দাঁড়ায়। তবে একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলার ১৪ সেন্টে স্থির হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখছেন ব্যবসায়ীরা। এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে।
বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এতে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে তেল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়লে বিশ্ববাজারে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে একদিকে সৌদি আরবে সংঘাতজনিত সরবরাহ ঝুঁকি, অন্যদিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা—এই দুই বিষয় বিবেচনায় রেখেই বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে সরবরাহ পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যৎ সরবরাহের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/ এমএস