ভারতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) দুই নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দলটি ও পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগের দিন দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে প্রবেশের জন্য ব্যারিকেড টপকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের কারাবাসকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুলভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিরোধীরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের সীমানায় প্রবেশের জন্য ব্যারিকেড টপকে যাওয়া প্রায় ১২ জনের মধ্যে রাঙ্কা ও দাস ছিলেন। দিল্লির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এই উন্মুক্ত স্থানে আগে বিক্ষোভ-সমাবেশের অনুমতি ছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, জায়গাটি এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান নয়।
দুই নেতার আইনজীবী অভীষ্ট হেলা সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া আইনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বারবার আইন লঙ্ঘন এবং জামিনে মুক্তি পেলে পুনরায় আইন ভঙ্গ ও অন্যদের উসকে দেওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
‘ভয় পাবে না’ ককরোচ জনতা পার্টি
ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি পাওয়া দলটির নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেছেন, নেতাদের কারাবন্দি করে আন্দোলন থামানো যাবে না। তিনি দাবি করেন, তাদের দল কথিত স্বৈরাচারী সরকারের অবসান ঘটাতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। গত ১২ বছরে মোদি ও তার বিজেপির জন্য দলটিকে অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে যন্তর মন্তরে দলটির সমর্থকদের কয়েক সপ্তাহের অবস্থান কর্মসূচির পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দুই উপসহকর্মী অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
গত বছর শুরু হওয়া সংশোধন কার্যক্রমে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়াদের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তি, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত ভোটার এবং ৩ কোটি এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, এসব সম্প্রদায়ের ভোটারদের বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ