দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনের মূল ফটক। এতে একদিকে মরচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে লাখ টাকা মূল্যের লোহার গেট, অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বন্ধ ফটকের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে অব্যবহৃত ও ভাঙাচোরা জিনিসপত্র। ফলে যাত্রীদের মালামাল নিয়ে ছোট্ট পাশের পকেট গেট দিয়ে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ১ নম্বর লাইনে একটি আন্তনগর ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেন থেকে নামা শিশু, নারী, পুরুষ ও বয়স্ক যাত্রীরা মালামাল নিয়ে ছোট্ট পকেট গেট দিয়ে কষ্ট করে বের হচ্ছেন। ট্রেন আসে, ট্রেন যায়; কিন্তু বন্ধ থাকে স্টেশন ভবনের মূল ফটক।
স্টেশন ভবনের মূল ফটকের পাশেই রয়েছে টিকিট কাউন্টার। কিন্তু ফটক বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে আসা অনেক যাত্রী সহজে টিকিট কাউন্টার খুঁজে পান না। স্টেশনে প্রবেশের জন্য তাদের মালামাল নিয়ে ভবনের পাশের ছোট্ট পকেট গেট ব্যবহার করতে হয়।
পকেট গেটের নিচে থাকা লোহার রডে যাত্রীদের পা আটকে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
টিকিট কাউন্টারের পাশেই রাখা হয়েছে স্টেশনের অব্যবহৃত পুরোনো জিনিসপত্র। ফলে যাত্রীদের আবর্জনা ও পরিত্যক্ত মালামালের পাশে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। মূল ফটক বন্ধ থাকায় স্টেশনে প্রবেশের পর টিকিট কাউন্টার খুঁজে পেতে অনেক যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে ছোটাছুটি করতে হয়।
যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই স্টেশন ভবনের নকশা করা হয়েছে। প্রবেশপথের কাছেই রাখা হয়েছে টিকিট কাউন্টার। অথচ মূল ফটক বন্ধ থাকায় কাউন্টারটি আড়ালে পড়ে গেছে।
রেলযাত্রীদের প্রশ্ন, সামান্য কিছু অব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখার কারণে কেন বন্ধ রাখা হবে স্টেশনের মূল ফটক? তাঁদের দাবি, অবিলম্বে মূল ফটক খুলে দিয়ে যাতায়াতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসে।
এ বিষয়ে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. রিয়ানুল হামিদ বলেন, স্টেশনের জিনিসপত্র হারিয়ে যায়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মূল ফটক বন্ধ রেখে সেটিকে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস