বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে      ● ৯ নভেম্বর বসছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন      ● হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের প্রাণহানি       ● তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ      ● ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরল বাংলাদেশ, আফগানদের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ      ● হাম-ডেঙ্গুর বিষাক্ত ছোবল, এক দিনে ১৫ মৃত্যু      
দেশজুড়ে
দুর্গাপূজায় মৌসুমী ব্যবসা
শোলার কদমফুলে সাজছে বাড়ি, রঙিন স্বপ্ন বুনছেন মালাকাররা
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চন্দনেরহাট এলাকার পুলিণ চন্দ্র পাল (৫৫) পেশায় একজন মালাকার। সারা বছরই শোলা দিয়ে নানা ধর্মীয় উৎসবের উপকরণ তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তবে দুর্গাপূজার সময় তার ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এ সময় তিনি শোলা দিয়ে কদমফুল বানানো ও বিক্রিতে মগ্ন থাকেন। শরৎ চন্দ্রের মতো শত শত মালাকারই এখন শোলার কদমফুল নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এটি হয়ে উঠেছে তাদের সবচেয়ে বড় মৌসুমী ব্যবসা। চলতি বছরের ১৬-২১ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

পুলিন চন্দ্র পাল জানান, প্রতি বছর তিনি ৫০০–৬০০ পরিবারের কাছে শোলার কদমফুল সরবরাহ করেন। প্রতিটি পরিবার ১০০–৩০০ টাকার কদমফুল কিনে নেয়। গেল ৩৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছেন তিনি। দুর্গাপূজার সময় শোলার কদমফুল বিক্রি করে যা আয় হয়, তা সারা বছরের সংসার চালাতে বড় সহায়তা করে। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কদমফুল তৈরি করতে খরচ হয় এক টাকা আর বিক্রি করেন ৪-৫ টাকা।’

মালাকাররা জানান, শোলা আসলে এক ধরনের জলজ উদ্ভিদ। নদীতে নয়, বরং স্রোতহীন খাল-বিল ও ছোট জলাশয়ে এটি জন্মায়। এক সময় স্থানীয় জলাশয় থেকেই শোলা সংগ্রহ করা হতো। এখন বাণিজ্যিকভাবেও শোলা উৎপাদন হচ্ছে। 

মালাকাররা তিন সাইজের কদমফুল তৈরি করেন—বড়, মাঝারি ও ছোট। বড়টির দাম ৮–১০ টাকা, মাঝারির ৬–৭ টাকা এবং ছোটটি ৪–৫ টাকা। দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মের প্রতিটি পরিবারের প্রায় ১০০–৩০০ টাকার কদমফুল কিনে থাকে। রংপুর বিভাগেই চার শতাধিক মালাকার সারা বছর শোলার নানান জিনিসপত্র তৈরি ও বাজারজাত করেন।

তারা জানান, মালাকাররা দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শোলার কদমফুল তৈরি ও বিক্রি করে বছরে ভালো আয় করেন। যদিও সারা বছর এ ব্যবসা আশানুরূপ চলে না, তবে দুর্গাপূজার মৌসুম তাদের জীবনে হাসি ফোটায়।

রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জের সুবোধ চন্দ্র পাল (৬৫) এ পেশাকে নিজের ‘জাত ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাদা রনজিত পাল ও বাবা নিরোধ পালও একই কাজ করতেন। শৈশব থেকে পৈতৃক পেশা আঁকড়ে ধরে তিনি এখন বছরে অন্তত ৭০০ পরিবারে শোলার কদমফুল সরবরাহ করছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার গ্রামের মালাকার নিবাস চন্দ্র বর্মণ (৫৫) বলেন, ‘আগে স্থানীয় জলাশয়ের মোটা জাতের শোলা দিয়ে জিনিসপত্র বানানো সহজ ছিল। এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত শোলা কিনতে হয়। খরচ কম, কিন্তু পরিশ্রম অনেক।’

লালমনিরহাটের সাধুটারী গ্রামের রামানুজ চন্দ্র রায় (৫২) জানান, শোলা দিয়ে তারা শুধু কদমফুল নয়, মুকুট, বিষহরি, মালাসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রীও তৈরি করেন। তবে কদমফুলের বাজার সবচেয়ে বড় এবং লাভজনক।

লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় কালীড়ী মন্দিরের পুরোহিত শঙ্কর চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্গাপূজায় শোলার কদমফুল বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাখা সনাতন ধর্মের বহু পুরনো প্রথা। এটি সৌন্দর্য বাড়ায় এবং আমরা বিশ্বাস করি, মন্দ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে ভগবানের আশীর্বাদ আনে।’

রংপুর নগরের সেনপাড়া এলাকার অধির চন্দ্র সেন (৭০) জানান, আমাদের পূর্বপুরুষরা যেমন শোলার কদমফুল ব্যবহার করতেন, আমরাও করি এবং পরবর্তী প্রজন্মও করবে। দুর্গাপূজার সময় অন্য কিছু না হলেও শোলার কদমফুল অবশ্যই কিনতে হয়।

রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়া এলাকার দুর্গা মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ অশোক সরকার জানান, দুর্গা পূজার সময় মন্দির সুসজ্জিত করতে শোলার তৈরি কদম ফুলের ব্যবহার করা হয়। শোলার তৈরি কদম ফুল মন্দিরকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। মন্দিরে শোলার তৈরি কদম ফুল পূজার উপকরণের একটি অংশ।

লালমনিরহাট পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হিরালাল রায় বলেন, ‘শোলা তুলার মতোই হালকা। শোলার জিনিসপত্র দেখলে মনে পবিত্রতা আসে। তাই দুর্গাপূজায় ঘরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোলার কদমফুল সাজানো হয়। শোলার তৈরি শিল্পের সঙ্গে আমাদের অঞ্চলে অনেকগুলো মালাকারের পরিবার নির্ভর করে।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  শোলা   কদমফুল   সাজ   বাড়ি   রঙিন   স্বপ্ন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close