বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ডেঙ্গু ঠেকাতে সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর      ● সমাজসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিন ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর      ● এলপিজিতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী      ● ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৩২১      ● এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, স্বাভাবিক হচ্ছে সরবরাহ      ● টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে      ● ৯ নভেম্বর বসছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
মাদকের নীল ছোবলে ধ্বংস সামাজিক বন্ধন
মোহাম্মদ উল্লাহ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে সামাজিক, পারিবারিক অবক্ষয় বাড়ছে। মাদকাসক্তের কারণে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন অনেকে। এ ছাড়া হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। গতকাল কুড়িগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে খুন হন মা। 

এর আগে মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিজের সন্তান বিক্রির মতো ঘটনা ঘটেছে। মাদকসংক্রান্ত কারণে বিভিন্ন নৃসংশ হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার খবর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়া, আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় মাদকের টাকা না দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে নিজের মাকে হত্যা করেন মুত্তাকীন আলম (৩০)। এ সময় নিজের বাবাকেও ছুরিকাঘাতে আহত করেন তিনি। 

এদিকে গত সোমবার কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য মা-বাবাকে মারধর করেছেন মাসুম মিয়া নামের এক মাদকাসক্ত যুবক। এ অভিযোগে ওই যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে গত ১৪ আগস্ট মহেশপুরে মাদকের টাকা না দেওয়ায় মাকে হত্যা করে মাদকাসক্ত ইখলাসুর রহমান।
 
এর আগে, চলতি বছরের আগস্টে রংপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে একই পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে ১২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনীর বউবাজার এলাকায় সাহেব আলী (৫০) নামের এক মাদক কারবারিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মাদকের বাজার, টাকা এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত ছিলেন। এ অপরাধে পরে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাদকসেবীদের থেকে নিরপদ নয়। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাগুরার শালিখা উপজেলায় মাদক বেচাকেনার গোপন খবরে অভিযান চালাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন এএসআই রকিবুল ইসলাম। সাহেদ ইটভাটার মোড়ে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের ধাওয়া করে একজনকে ধরার পর সে ধারালো ছুরি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়।

মাদকের টাকার জন্য এক নেশাগ্রস্ত বাবা নিজের সন্তানকেও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধায় মাদকের অর্থ জোগাড় করতে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া ১১ মাস বয়সি শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত গ্রামে নিজ স্ত্রী কন্যার কাছে মাদক না পেয়ে মোস্তফা মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিজ বসতবাড়িতে আগুন দেন।

২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগ এবং রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেডের (আরএমসিএল) সহযোগিতায় দেশব্যাপী একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। 

এতে বলা হয়, একজন মাদকসেবী প্রতি মাসে মাদকের পেছনে গড়ে ৪ হাজার টাকারও বেশি ব্যয় করে। ৪৮ শতাংশ মাদকসেবী জানিয়েছে, তারা নিজেরাই মাদক কারবার করে মাদকের টাকা সংগ্রহ করে। আর ২২ শতাংশ মাদকসেবী চুরি করে মাদকের অর্থ জোগাড় করে। 

রেললাইন সংলগ্ন এলাকা, ফ্লাইওভারের নির্জন অংশ, অন্ধকার গলি এবং বাস টার্মিনাল এলাকাগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। অধিকাংশ মাদকসেবী তাদের মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্যই মূলত ছিনতাই, ডাকাতি বা চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, যারা মাদক গ্রহণ করেন, তাদের সাইকোলজি এবং সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব এক না। মানুষ জানে ধূমপান ক্ষতিকর, তারপরও তারা সেটা গ্রহণ করে। কারণ, এর মাধ্যমে তারা মানসিক শান্তি পায়। ধূমপায়ীরা মনে করে যে, শারীরিক ক্ষতির তুলনায় এটা তাকে বেশি আনন্দ দিচ্ছে। এ কারণে অনেকে ধূমপান ক্ষতিকর জেনেও করে। একই ঘটনা ঘটে মাদকগ্রহণের সময়। অনেক মাদকসেবী শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির তোয়াক্কা না করে নানা মাদক গ্রহণ করে। কারণ, এটা তার বিষণ্নতা, হতাশা ও অবসাদ দূর করে। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে ডোপমিন নিঃসরণ বাড়ে এবং শরীরে সাময়িক এনার্জি আসে। এটাকে বেশি উপকারী মনে করেন বলেই তারা এসব মাদক নেন।

তিনি আরাও বলেন, মাদকসেবীরা মনে করে একসময় তারা মাদক ছেড়ে দেবে। কিন্তু তারা আর এটা ছাড়তে পারে না। একসময় তারা মাদকের ফাঁদে পড়ে যায়। এটা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। যখন তারা মানক গ্রহণ করে না, তখন শরীর বিদ্রোহ করে। তখন মাদকসেবীরা ঠিকভাবে ঘুমাতে ও খেতে পারে না, তাদের কথা বলতে কষ্ট হয় এবং মেজাজ খারাপ থাকে। ওই সময় শরীরও জানান দেয় যে, তাদের মাদক দরকার। এমন একটা পরিস্থিতিতে তারা সবকিছু করতে পারে। তারা মাদকের জন্য হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নিজের মা-বাবাকে আঘাত এবং শিশুকেও বিক্রি করতে দ্বিধা করে না। এর কারণ তাদের কোনো হিতাহিত জ্ঞানই থাকে না।   

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  মাদক   সামাজিক বন্ধন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close