শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া      ● ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি, সমাধানে বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশল      ● ভারতজুড়ে পতাকা মিছিলের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির      ● মনিরুল পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি টাকা, সব ফ্রিজের আদেশ      ● হাম উপসর্গে একদিনে ৪ জনের প্রাণহানি      ● মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা      ● ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৪৩      
বিনোদন
‘এবার বিয়ে করতেই হবে’, ধর্মেন্দ্রকে বলেছিলেন হেমা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম আপডেট: ১৬.১০.২০২৬ ২:৩৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

হিন্দি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেমের গল্প বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। ১৯৭০ সালে সিনেমার সেটে তাদের প্রথম পরিচয়, এরপর প্রেম এবং ১৯৮০ সালে বিয়ে। তবে ধর্মেন্দ্র আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং তার চার সন্তানও ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থেকেছে।

এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা খোলামেলাভাবে জানিয়েছিলেন হেমা মালিনী। আইটিএমবি শোজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। হেমার ভাষায়, ভালোবাসার ক্ষেত্রে মানুষ অনেক সময় ঠিক-ভুলের হিসাব না করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, ভালোবাসলে সামনে-পেছনে বা ঠিক-বেঠিক নিয়ে ভাবা যায় না। কারও প্রেমে পড়লে মানুষ সেই অনুভূতি নিয়েই এগিয়ে যায়। তার ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা।

২০২২ সালের আরেক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রকে প্রথম দেখার স্মৃতিও তুলে ধরেন হেমা। অভিনেতার সুদর্শন চেহারা প্রথমেই তার নজর কেড়েছিল বলে জানান তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর প্রতি তার মুগ্ধতা আরও বেড়েছিল। হেমার বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্রও তার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন এবং তাকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ধর্মেন্দ্রকে বিয়ের কথা বলেছিলেন হেমা

ধর্মেন্দ্রকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন হেমা মালিনী। তামিল ঐতিহ্যনির্ভর রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠায় এই সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তার ওপর ধর্মেন্দ্র তখন প্রকাশ কৌরের স্বামী এবং চার সন্তানের বাবা।

২০২২ সালের সাক্ষাৎকারে হেমা জানান, একপর্যায়ে তিনি ধর্মেন্দ্রকে সম্পর্কটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা বলেন। তার চাওয়া ছিল না সম্পদ কিংবা অর্থ; বরং ভালোবাসা ও সঙ্গই ছিল তার কাছে মুখ্য।

হেমার ভাষ্য, একসময় তাকে ধর্মেন্দ্রকে বলতে হয়েছিল, এবার বিয়ে করতে হবে, এভাবে আর চলতে পারে না। তিনি জানতেন, এ সিদ্ধান্তে কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছু প্রত্যাশা করেননি বলেও জানান তিনি।

বিয়ের পরও ধর্মেন্দ্রর আগের পারিবারিক জীবনকে ব্যাহত করতে চাননি হেমা। এ কারণে তারা আলাদাভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

১৯৭০ সালে পরিচয়, বিয়ে ১৯৮০ সালে

ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। তাঁদের চার সন্তান—সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা দেওল ও বিজেতা দেওল। পরবর্তী সময়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর ১৯৭০ সালে ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ সিনেমার সেটে হেমা মালিনীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পরে ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’, ‘জুগনু’ ও ‘ড্রিম গার্ল’-এর মতো ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন এই দুই তারকা।

তাদের বিয়ে নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হয়, কারণ ধর্মেন্দ্র তখনও প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ের কথা বলা হলেও ধর্মেন্দ্র পরে ধর্মান্তরের দাবি অস্বীকার করেন। হেমার তামিল ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে তাদের বিয়েতে ঐতিহ্যবাহী আইয়েঙ্গার রীতিও অনুসরণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এই দম্পতির দুই মেয়ে এশা দেওল ও অহনা দেওল। দীর্ঘ সম্পর্কের পরও দুই পরিবারের জীবনযাপন ও পারিবারিক সমীকরণ নিয়ে জনমনে কৌতূহল ছিল।

হেমা মালিনীকে নিয়ে কী বলেছিলেন প্রকাশ কৌর?

১৯৮১ সালে ‘স্টারডাস্ট’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে হেমা মালিনীর সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন তার প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর। স্বামীর সমালোচনার জবাবে তিনি ধর্মেন্দ্রর পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেন।

প্রকাশ কৌরের বক্তব্য ছিল, কেন শুধু তার স্বামী—অন্য যেকোনো পুরুষও তাকে বেছে নেওয়ার বদলে হেমা মালিনীকে পছন্দ করতে পারতেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের অন্য পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটলে শুধু তার স্বামীকে কেন নারীলোলুপ বলা হবে।

তার সেই মন্তব্য সে সময়ের বহুল আলোচিত বক্তব্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর মুম্বাইয়ে ৮৯ বছর বয়সে মারা যান ধর্মেন্দ্র। মুম্বাইয়ের পবন হংস শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যেখানে চলচ্চিত্রজগতের বহু তারকা উপস্থিত ছিলেন।

২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ের তাজ ল্যান্ডস এন্ড হোটেলে তার স্মরণে প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর তার অভিনয়জীবনের পাশাপাশি হেমা মালিনী ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের নানা অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় আসে।


সূত্র: এনডিটিভি

কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  বলিউড   ধর্মেন্দ্র-হেমা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close