নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল খেড়কাটি বড় হাটের পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খেড়কাটি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৩ এ ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মাননা স্মারক অর্জন করে। কিন্তু উপজেলার অন্যতম সেরা এ বিদ্যাপীঠে বর্তমানে তীব্র শ্রেণি কক্ষ ও বেঞ্চ সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত আসন ও রুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মেঝেতে বসেই পাঠদান গ্রহণ করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট ১০৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে (যাদের মধ্যে ছাত্র ৪৯০ জন এবং ছাত্রী ৫৬০ জন)। বিদ্যালয়টিতে সরকারি অনুমোদিত শাখা ৮টি এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৬ জন (শিক্ষক ১৯ জন ও কর্মচারী ৭ জন)। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। চারতলা ভবনে পাঠদানের জন্য বর্তমানে মাত্র ৭টি কক্ষ ব্যবহার উপযোগী। যেখানে প্রতিদিনের শিক্ষাকার্যক্রম ও শাখা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৩টি কক্ষ। এছাড়া বিদ্যালয়ের হলরুমে চেয়ার-বেঞ্চ এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামেরও সম্পূর্ণভাবে তীব্র অভাব রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে জাহিনুর রহমান (বিএসসি) প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তার নিবেদিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিতে আমূল পরিবর্তন আসে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করাসহ শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যার ফলে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর হার কমে ভর্তির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে আধুনিক ও মানসম্মত পাঠদান বজায় থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা শিক্ষাকার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
শ্রেণিকক্ষে জায়গা না পেয়ে চট বা মাদুর বিছিয়ে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত কষ্ট ভোগ করছে।
বিশেষ করে গরমের দিনে এবং দীর্ঘ সময় মেঝেতে বসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকমণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় আমরা পড়ালেখার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগে উন্নীত করতে পেরেছি। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থী অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চের ঘাটতি আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। শিক্ষার মান ধরে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি নতুন বহুতল ভবন, প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, হলরুমের আসবাবপত্র ও পর্যাপ্ত বেঞ্চ সরবরাহ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
ইতিমধ্যেই অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় বেঞ্চ বরাদ্দের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষকমণ্ডলী।
কেকে/এআই