গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ৬৪টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, রং করা, সাজসজ্জা ও আলোকায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশ। আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপে মণ্ডপে এখন ব্যস্ততা। প্রতিমাশিল্পীরা শেষ করছেন রঙের কাজ, আর আয়োজকেরা ব্যস্ত মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জা নিয়ে। পূজার সার্বিক পরিবেশ ঠিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও খোঁজখবর নিচ্ছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, উপজেলায় এবার ৬৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রতিটি মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আয়োজকদের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ নিয়মিত মণ্ডপ পরিদর্শন করছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের কাপাসিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মণ্ডপে যাতায়াতের সমস্যা, বিদ্যুৎ সরবরাহ কিংবা অন্য কোনো অসুবিধা দেখা দিলে প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী মণ্ডপে রাতের পাহারা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আয়োজকদের অবহিত করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় উৎসবটি আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কাপাসিয়ার রাওনাইট বাজারসংলগ্ন পানবরাইদ রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নিতাই বর্ধন জানান, তাদের মন্দিরে প্রতিমায় রঙের কাজ চলছে। এলাকার পরিবেশ ভালো রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং তারাও খোঁজখবর রাখছেন।
তার মতে, আয়োজক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকায় পূজার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সহজ হচ্ছে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে কাপাসিয়ার নেতা শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ খন্দকার আজিজুর রহমান পেরাসহ নেতারা মণ্ডপগুলোতে গিয়ে আয়োজকদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা বলেন, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, সবাই যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নানের নেতৃত্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ শোনা হয় এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়।
খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা আরও বলেন, ‘গত বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে নিরাপত্তায় সহযোগিতা করেছেন। এবারও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করবেন।’
এখন পর্যন্ত পূজাকে ঘিরে কোনো হুমকি বা ভীতিকর পরিস্থিতির খবর তারা পাননি বলে জানান তিনি।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুল হক বলেন, ‘কাপাসিয়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপজেলা। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। আসন্ন দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপনে উপজেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
এ দিকে পূজাকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারগুলোতে কেনাকাটার ব্যস্ততা বেড়েছে। নতুন পোশাক ও পূজার সামগ্রী কিনতে বাজারে ভিড় করছেন মানুষ। মণ্ডপে মণ্ডপে সাজসজ্জার কাজও চলছে।
আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কাপাসিয়ার ৬৪টি মণ্ডপে নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে উৎসবটি সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠবে।
কেকে/এআই