পাবনায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামারা তাসবিহা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল কাদের ।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, সততা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা কোনো ধরনের প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রকৃত অবস্থা ও নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করতে হবে। কোনো অসহায় ও যোগ্য পরিবার যেন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে গৃহীত কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার ওপর। তথ্য সংগ্রহে ভুল, অনিয়ম কিংবা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ রাখা যাবে না। জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল তথ্য যেমন প্রকৃত উপকারভোগীকে বঞ্চিত করতে পারে, তেমনি অযোগ্য ব্যক্তিকে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তাই তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তদারকির প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। জেলা প্রশাসন কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তদারকি অব্যাহত রাখবে।’
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য, উপকারভোগী পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্য যাচাই-বাছাই, মাঠ পর্যায়ে তদারকি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিতকরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামারা তাসবিহা। এছাড়াও প্রশিক্ষণ উদ্ভোধনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ পরিষদ হতে ১১ জনকে ৫৩ হাজার টাকার অনুদান প্রদান, ২৪ জনের মাঝে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণের ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণের ২৯ লাখ ৯২ হাজার০ টাকা পুনঃ বিনিয়োগ হিসেবে চেক বিতরণ করা হয়েছে।
কেকে/এআই