শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক আগামীর প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী      ● দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির      ● ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা      ● সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী      ● মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান, মুচলেকায় মুক্ত রাজীব ঘোষ      ● শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আগুনে শেষ ছয় স্বজন, নির্বাক আমিনুল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বেড়াতে এসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন ঢাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম। তিন বোনের সন্তানদের মধ্যে পাঁচজন এবং বড় ভাগনির এক সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

‘আমার ভাগনে-ভাগনি ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।’

কান্নাজড়িত কথাগুলো বলছিলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ খবর শুনে তিনি ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজারে এসেছেন।

দুপুর দুইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তারা বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিল। সকালে যখন আগুন লেগেছিল, তখন তাদের দুইজন বাইরে ছিল। এরপর তারাই আমাকে খবর দিয়েছে।’

উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে যে রিসোর্টে আগুন লেগেছে, এর নাম টুপটুপ। দুপুর সোয়া দুইটায় ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান চলছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আজ সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারজন মারা গেছেন তিনতলার দুইটি শৌচাগারে।

তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত-আট মাস আগে রিসোর্টটি তৈরি হয়েছিল।’
জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানান তিনি।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে—ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও এক শিশু।

এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) ও তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯)।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজারে বেড়াতে আসা   আগুনে শেষ স্বজন   নির্বাক আমিনুল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close