সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ইশরাক      ● আজ মহাঅষ্টমী: কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজায় মুখর দুর্গোৎসব      ● মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন      ● পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে সুন্দর এলাকা গড়া সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী      ● ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ছয়জনের, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২০৮৮      ● বিমানবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার      
খোলাকাগজ স্পেশাল
মহামারির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত
মোহাম্মদ উল্লাহ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এবং চিকিৎসাসেবার নানা সীমাবদ্ধতা বিষয়টিকে আরও উসকে দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা, শয্যাসংকট, ওষুধ সংগ্রহে ভোগান্তি এবং দালাল ও প্রতারকচক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।

রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে শয্যাসংকট ও সেবাব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কেউ পরিস্থিতিকে মহামারির দিকে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করছেন।

ঢাকা মেডিকেলে শয্যাসংকট, চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ 

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি বারান্দায় অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক রোগী শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ও অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে তুলনামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান যাচাই করা প্রয়োজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা পাওয়া, ওষুধ সংগ্রহ এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে শয্যা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে পাওয়ার কথা এমন ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রোগীদের স্বজনেরা। এ ছাড়া পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই কোনো কোনো রোগীকে শয্যা ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসক ও নার্সদের পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালটির রোগী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপু হালদার অভিযোগ করেন, গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিনি কোনো চিকিৎসক বা নার্সের দেখা পাননি। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার দাবি, হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট শৃঙ্খলা নেই এবং নার্সদের সময়মতো পাওয়া যায় না।

শরীয়তপুরের বাসিন্দা ফরিদ জানান, তার স্ত্রী রিতা (২৮) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও তাকে শয্যা ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফরিদের আরও অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে পাওয়ার কথা এমন ওষুধও তাকে অর্থের বিনিময়ে কিনতে হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন না। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ফরহাদ হোসেন বলেন, রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের অনেক বিষয়ই সত্য। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিস্থিতির উন্নয়নে তাকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

মুগদা হাসপাতালে রোগীর চাপ, দালালচক্রের অভিযোগ 

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. নূরুল হক জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে ২৬৫ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হাসপাতালেও দালাল ও প্রতারক চক্রের তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তাদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীদের অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে অর্থ না দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যাতে রোগী বা স্বজনেরা বাধ্য হয়ে অর্থ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. নূরুল হক বলেন, দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবা সহজ করতে হাসপাতালে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়তি চাপ

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শয্যার সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতালটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান বলেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ চলছে। তবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।

বেসরকারি হাসপাতালের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন 

সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের স্বজনদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও অন্য হাসপাতালে পরীক্ষায় ভিন্ন ফল পাওয়া যাচ্ছে। এতে রোগী ও তাদের পরিবার বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।

এমনই অভিযোগ করেছেন দুই রোগীর বাবা আলতাফ হোসেন। তার দাবি, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার সেন্ট জন ভিয়ানী হাসপাতালে তার ছেলের ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। পরে স্কয়ার হাসপাতালে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

আলতাফ হোসেন আরও বলেন, তার মেয়ের প্লাটিলেটের সংখ্যা সেন্ট জন ভিয়ানী হাসপাতালে ২৭ হাজার বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু স্কয়ার হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর পর প্লাটিলেটের সংখ্যা দুই লাখ ৭৮ হাজার পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় ভর্তি, চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে সেন্ট জন ভিয়ানী হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল) ডা. ইকবাল বলেন, দুই হাসপাতালের যে কোনো একটির পরীক্ষার ফল ভুল হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে এসব পরীক্ষার ফলাফলের পার্থক্যের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রতিবেদন, পরীক্ষাপদ্ধতি, নমুনা সংগ্রহের সময় এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধু দুটি ফলাফলের পার্থক্যের ভিত্তিতে কোনো একটি হাসপাতালের পরীক্ষাকে ভুল বলে নিশ্চিত করা যায় না।

অক্টোবরের প্রথমার্ধেই মৃত্যু ৯০, আক্রান্ত প্রায় ২৯ হাজার 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮২০ জন নতুন রোগী। বছরের শুরু থেকে অক্টোবরের ওই সময় পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন আক্রান্ত এবং ১৪৮ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে এসব সংখ্যার চূড়ান্ত প্রকাশের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রতিবেদন ও মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনের হিসাব, সেপ্টেম্বরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এবং বছরের মোট পরিসংখ্যান একই সময়সীমা ও সংজ্ঞা অনুসারে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু কি মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগের সংক্রমণ স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে, বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করলে তা মহামারি পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। তবে কোনো রোগকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাত্রা, বিস্তারের ধরন, সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু মহামারির রূপ নিয়েছিল, যদিও সে সময়ের সরকার তা স্বীকার করেনি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। কমিউনিটি পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রাথমিক পর্যায়েই সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও তা এখনো সবার কাছে সহজলভ্য নয়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি, নিম্ন আয়ের এলাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য জ্বরের শুরুতেই পরীক্ষা করানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, জ্বরের শুরুতেই বিনামূল্যে পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে রোগী দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া যাবে। ডেঙ্গু মোকাবিলাকে শুধু চিকিৎসাসেবার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে এসে অসুস্থ দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও ন্যূনতম সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা, ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়ানো এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

তার মতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের শুরু থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। রোগীর অবস্থা জটিল হলে দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। এ জন্য দ্রুত কার্যকর নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব 

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তবে শীতের দিকে সংক্রমণ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জ্বর, শরীর ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাদের আগে থেকেই অন্য রোগ রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি 

ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি, হাসপাতালে রোগীর চাপ, শয্যাসংকট এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগ সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করলেই চলবে না; রোগ শনাক্তকরণ, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সুযোগ, হাসপাতালের শয্যা ও জনবল বৃদ্ধি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং চিকিৎসাসেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  মহামারির ঝুঁকি   ডেঙ্গু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close