পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেবল ‘অস্থিরতা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে উত্তরা, মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান সংকট। গণমাধ্যমে প্রকাশ- আন্দোলনের মুখে এক দিনে ৫২৯টি কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য শ্রমিক অসন্তোষের ব্যাপকতা ও গভীরতা নির্দেশ করে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ পর্যালোচনা করলে সংবাদ নির্বাচনের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২৮, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর—এই চার দিনের প্রথম পাতার চিত্রে দেখা যায়, প্রথম আলো একবারও শ্রমিক আন্দোলনকে প্রধান সংবাদ হিসেবে তুলে ধরেনি। ১ নভেম্বর প্রথম পাতার বড় অংশজুড়ে ছিল বিলাসবহুল মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপন। শ্রমিকদের আন্দোলনের খবর স্থান পেয়েছে তৃতীয় পাতায়, বড় অঙ্কের ব্যাংক আমানতের বিজ্ঞাপনের পাশে। ফলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি কর্মচারীদের বেতনসংক্রান্ত খবর প্রথম পাতায় গুরুত্ব পেলেও শ্রমিকদের মজুরির দাবি সেই গুরুত্ব পায়নি। এমনকি চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সঙ্গী পাওয়ার খবরও তৃতীয় পাতায় উল্লেখযোগ্য জায়গা পেয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ৩১ অক্টোবর প্রথম পাতায় আন্দোলনের খবর প্রকাশ করেনি। শেষ পাতায় ‘ভাঙচুর পোশাক শ্রমিকদের’ শিরোনামে ছোট পরিসরে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। ১ নভেম্বর প্রথম পাতায় খবরটি এলেও শ্রমিকদের মজুরির দাবির পরিবর্তে প্রাধান্য পেয়েছে ‘পোশাক খাতে অস্থিরতা’ শিরোনাম। সমকাল সরকারি উদ্যোগের ঘোষণাকে সামনে রেখে ‘তৈরি পোশাক খাতে মজুরি বোর্ড ঘোষণা আজ’ শিরোনাম করেছে; পাশে ছোট বক্সে ছিল ‘শ্রমিক অসন্তোষ’। অন্যদিকে, দ্য ডেইলি স্টার প্রথম পাতায় আন্দোলনের ছবি প্রকাশ করলেও মূল শিরোনামে গুরুত্ব পেয়েছে কারখানা বন্ধ, সড়ক অচল হওয়া এবং আন্দোলন থামাতে মন্ত্রীর আহ্বান।
তবে ২ নভেম্বর প্রথম আলো ‘মিরপুর, গাজীপুর, সাভারে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, মজুরি বোর্ড গঠন’ শিরোনামে শ্রমিক আন্দোলনকে প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করে। এর নিচে ‘আ. লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন’ এবং ‘অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ’ শিরোনামে আরও দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এদিকে, প্রথম সারির অন্য একটি পত্রিকার ‘অস্থিরতার নেপথ্যে কারা’ শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সংগঠকদের ভূমিকার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্যে নীপা গার্মেন্টসের শ্রমিকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার সমন্বয়ক হিসেবে বিমানবন্দর থানা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মতি ও তার অনুসারীদের নাম এসেছে। কারখানার ভেতরে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. সাদ্দাম খান।
চৈতি গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সবুজ ও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মারজানের নাম এসেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে আন্দোলনকে ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদনের শেষাংশে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। উত্তরখান থানা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বকুল, দক্ষিণখান থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম বাবলু এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন আন্দোলনে তাদের সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় নেতারা শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর চেষ্টা করছেন।
এখানে স্পষ্ট করেই বলতে হয়, চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা অনুসন্ধান ও প্রকাশ করা অবশ্যই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তবে সেই অনুসন্ধান যেন শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি, মজুরির সংকট এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে আড়াল না করে। আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি- দুটি পৃথক বিষয়। একটির অস্তিত্ব অন্যটিকে অস্বীকার করার যুক্তি হতে পারে না।
সংবাদ নির্বাচনের স্বাধীনতা গণমাধ্যমের রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের দাবি আড়াল করে কেবল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, কারখানা বন্ধ কিংবা জনদুর্ভোগকে সামনে আনলে আন্দোলনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আড়ালেই থেকে যায়। এখানেই গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গণমাধ্যমের মালিকানা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাতও এ ক্ষেত্রে আলোচনার দাবি রাখে। দেশের অনেক গণমাধ্যম মালিক বড় ব্যবসায়ী; তাদের কারও কারও গার্মেন্টস, ব্যাংক ও আবাসন খাতেও বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে মালিকানার ব্যবসায়িক স্বার্থ সংবাদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে কি না, সে প্রশ্ন অমূলক নয়। তবে কোনো সংবাদ প্রকাশের ধরন বা সংবাদে গুরুত্ব দেওয়ার তারতম্য থেকেই নির্দিষ্ট মালিকের হস্তক্ষেপ প্রমাণ করা যায় না। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতার চর্চা।
এবার চলুন, মজুরি ও বেতনবৈষম্যের পরিসংখ্যানগত বাস্তবতাটি দেখা যাক
২০১০ সালে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৩ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ ১৩ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১৭ গুণ। বিপরীতে, সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে— প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ গুণ। সর্বোচ্চ মূল বেতন ৪০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হলে বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় প্রায় ৩ দশমিক ৯ গুণ। প্রচলিত বেতনকাঠামো অনুযায়ী, বিভিন্ন ভাতাসহ প্রথম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মোট মাসিক বেতন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা হতে পারে।
এখানে তুলনার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখা জরুরি। পোশাকশ্রমিকের ১২ হাজার ৫০০ টাকা মোট ন্যূনতম মজুরি, অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীর ২০ হাজার টাকা মূল বেতন, যার সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হয়। ফলে দুটি অঙ্ক সরাসরি সমতুল্য নয়। তা সত্ত্বেও
মজুরি পুনর্র্নিধারণের ব্যবধান এবং সরকারি বেতনকাঠামোয় ধাপভিত্তিক বৃদ্ধির সুযোগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
পরিসংখ্যানগতভাবে, পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি সরকারি কর্মচারীর সর্বনিম্ন মূল বেতনের ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর প্রথম গ্রেডের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার মোট বেতনের তুলনায় এই মজুরি মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি। এই তুলনা দিয়ে সরাসরি আয়বৈষম্যের কারণ নির্ধারণ করা না গেলেও শ্রমজীবী মানুষের আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বেতনকাঠামোর ব্যবধানটি স্পষ্ট হয়।
তবে মূল সংকট শুধু বেতন বৃদ্ধির হার নয়; বরং প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা। ২০১০-১১ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ১৩৮ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে সার্বিক মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ১১১ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বেশি। পরবর্তী সময়েও মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় শ্রমজীবী মানুষের সংসার চালানোর চাপ আরও বেড়েছে। বাড়িভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর একজন শ্রমিকের হাতে কতটুকু অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই তার প্রকৃত জীবনমানের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
দেশের আয়বৈষম্যের চিত্রও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে আয়গিনি সহগ ২০১০ সালের ০ দশমিক ৪৫৮ থেকে বেড়ে ০ দশমিক ৪৯৯ হয়েছে। শহরাঞ্চলে এ হার ০ দশমিক ৫৩৯।
একই সময়ে গড় মাসিক পারিবারিক আয় ১১ হাজার ৪৭৯ টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার ৪২২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই আয়বৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। জরিপ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের অংশ ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে। বিপরীতে, সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশের আয়ের অংশ ০ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ০ দশমিক ৩৭ শতাংশে নেমেছে।
ঢাকা পেপার্স এর সংবাদ -ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট সম্পদের প্রায় ৫৮ শতাংশ শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে, নিচের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ সম্পদ। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও সম্পদের মালিকানা ও বণ্টনে বৈষম্য প্রকট।
দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের ইঙ্গিত রয়েছে। বিবিএসের ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, পিপিআরসির ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের জরিপের ফল ২০২৬ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জরিপের সময়কাল, পদ্ধতি ও দারিদ্র্যসীমার পার্থক্য থাকায় এ দুটি হারকে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। তারপরও সাম্প্রতিক দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা ও নীতিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি একাই আয়বৈষম্যের কারণ—এমন সিদ্ধান্ত তথ্যসমর্থিত নয়। বরং আয় ও সম্পদের কেন্দ্রীভবনে ব্যবসায়িক মুনাফা, সম্পদের মালিকানা, উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ অর্জন এবং আয় বণ্টনের কাঠামোর বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু একজন পোশাকশ্রমিক যখন দেখেন, তার মজুরি দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকছে, বাজারদর ক্রমাগত বাড়ছে এবং উৎপাদনের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্পদের বড় অংশ অন্যদের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, তখন তার মধ্যে ক্ষোভ ও বঞ্চনাবোধ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
পোশাকশিল্পের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের শ্রম দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনীতিকে সচল রাখে। তাদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়েই দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করছে। অথচ এই শ্রমিকদের অনেকেরই পেনশন নেই, নেই নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণের প্রশ্নটি তাই কেবল শিল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন।
একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কাজ শুধু কোথায় সংঘর্ষ হলো, কতটি কারখানা বন্ধ হলো কিংবা কোন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলো, তা জানানো নয়। একই সঙ্গে কেন শ্রমিকেরা রাস্তায় নামলেন, তাদের দাবির যৌক্তিকতা কতটুকু, দীর্ঘদিনের মজুরি কাঠামো তাদের জীবনযাত্রায় কী প্রভাব ফেলেছে এবং শিল্পের মুনাফা ও শ্রমের প্রাপ্যতার মধ্যে ভারসাম্য কতটা রয়েছে- সেসব প্রশ্নও সামনে আনা।
শ্রমিকের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে খাটো করা যেমন অনুচিত, তেমনি আন্দোলনের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা জনজীবন বিপর্যস্ত করার ঘটনাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো, কোনো পক্ষের প্রচারযন্ত্রে পরিণত না হয়ে তথ্য, প্রমাণ ও প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা।
মনে রাখতে হবে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি তার শ্রমের ন্যায্য পাওনা। তাদের দাবি সংবাদে যথাযথ গুরুত্ব না পেলে গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। আর মজুরির প্রশ্নটি উপেক্ষিত থাকলে শিল্পের উৎপাদনশীলতা, শ্রমিকের জীবনমান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা- সবই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কেবল শিল্পের ব্যয় নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক শর্ত।
লেখক : কলামিস্ট
কেকে/সাশ