মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● মিরপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন      ● গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ      ● ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন      ● ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা      ● ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৩৩      ● জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর জোর রাষ্ট্রপতির      ● হাম উপসর্গে আরও ৩ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৪৮      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে চাই দূরদর্শী পরিকল্পনা
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২১ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

গ্যাস সংকট যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। কখনো এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ, কখনো সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, আবার কখনো আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে নেমে আসবে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে, ফলে ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দেবে। 

রান্নাঘরের চুলা থেকে শুরু করে কলকারখানার বয়লার, সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, সবখানেই এর প্রভাব পড়বে। প্রশ্ন হলো, এ সংকট কি কেবলই অনিবার্য নিয়তি, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার ফল? দুঃখজনক সত্য হলো, রক্ষণাবেক্ষণের মতো পূর্বনির্ধারিত কাজের জন্যও আমাদের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত থাকে না।

গত বছরের ডিসেম্বরেও একই ধরনের কাজ হয়েছিল, তবু এবারও সাধারণ মানুষকে একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে সবার আগে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

বাপেক্সকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী করা, নতুন ক‚প খনন এবং পুরোনো ক‚পের উৎপাদন ধরে রাখার উদ্যোগ জরুরি। একইসঙ্গে স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।

কক্সবাজারের ইনানীতে নলকূপ খননের সময় গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনাটি আতঙ্কের বিষয় হলেও সম্ভাব্য মজুত নিরূপণে ২ডি সাইসমিক জরিপসহ বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। আমদানিনির্ভরতা কমাতে না পারলে ডলার সংকট ও বিশ্ববাজারের দামের ওঠানামা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বারবার ঝুঁকিতে ফেলবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখী করা, নতুন টার্মিনাল ও স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়ানো এবং একক টার্মিনালের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। এর পাশাপাশি পাইপলাইন নেটওয়ার্কের লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো, অবৈধ সংযোগ বন্ধ এবং গ্যাস চুরি রোধে কঠোর হওয়া দরকার।

আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস বণ্টনে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সংকটকালে সীমিত সরবরাহের ন্যায্য ও স্বচ্ছ বণ্টনও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় না গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। রক্ষণাবেক্ষণ বা জরুরি পরিস্থিতির আগাম সময়সূচি জনগণকে অন্তত কয়েক দিন আগে জানানো, কোন এলাকায় কখন কতটা চাপ কমবে তা প্রকাশ করা এবং বিকল্প জ্বালানি, যেমন এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখাও জরুরি।

দীর্ঘমেয়াদে সৌর ও বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে গ্যাসের ওপর চাপ কমানো, শিল্পকারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং জ্বালানি খাতের পরিকল্পনায় দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। জনগণের ধৈর্যের একটা সীমা আছে।

কেবল দুঃখ প্রকাশ আর আশ্বাসে নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ ও জবাবদিহিমূলক জ্বালানি ব্যবস্থাপনাই পারে এই চলমান ভোগান্তির অবসান ঘটাতে। সরকার যত দ্রুত এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে কার্যকর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নেবে, ততই মঙ্গল।


কেকে/সাশ 


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close