ফেনীতে বিএনপির দুঃসময়ে দলের হাল ধরা নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জসিম দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনীতি ছাড়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুরে তার মালিকানাধীন ‘সৌদিয়া ব্রিকস ফিল্ড’ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা জসিম চেয়ারম্যান বলেন, গুপ্তভাবে বা গোপনে নিজেদের প্রয়োজনে কমিটি ঘোষণা করে আমার নাম ধলিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটিতে সদস্য হিসেবে রেখেছে। আমি আমার জানা অজানা বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী আদর্শের যতো সংগঠন আছে সব সংগঠনের সব পদ ও দল থেকে অব্যাহতি নিলাম এবং রাজনীতি ছেড়ে দিলাম।
তিনি বলেন, আমি নবম শ্রেণি থেকে ছাত্র-দলের রাজনীতি করতাম এবং দায়িত্বেও ছিলাম। পর্যায়ক্রমে ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলের সভাপতিও ছিলাম। যতদিন আমার দেহে প্রাণ থাকবে ততদিন আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ ও লালন করবো।
তিনি আরও বলেন, আমি দলের সমর্থক হিসেবে যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ থাকবো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ পালিয়েছে, কিন্তু এখন যারা রাজনীতি করছে দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে তারা কারা? এখনো তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে, এগুলো কে করছে? সিন্ডিকেটের লোক ছাড়া আমার লোকজনদের কাউকে কোথাও রাখছে না। কিছুদিন আগে কোনো কারণ ছাড়া সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন পাটোয়ারীকে অব্যাহতি দিয়েছে। কারণ হলো, সে আমার জাতীয়তাবাদী আদর্শের লোক আর কোনো অপরাধ নেই তার। ইমাম হোসেন প্রবিরকে ধলিয়া বাজারে হাত-পা ভেঙে ফেলে রেখে যায় আওয়ামী লীগ। তাকেও সোনাগাজী উপজেলা যুবদল থেকে কোনো কারণ ছাড়া বহিষ্কার করা হয়েছে। বারবার সেন্ট্রাল যুবদলের কাছে যাওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি। জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এরপরও কার ইশারায় দলীয় লোকজনদের বিনা কারণে বহিষ্কার করা হচ্ছে...?
দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে দলের প্রথম সারির পাঁচ জনের মধ্যে আমি একজন। ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১৪ বছর চেয়ারম্যান ছিলাম। আওয়ামী লীগ আমলেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। যারা এখন আছে তারা কখনো দলের নামও মুখে নেয়নি। কালাম জামায়াত প্রার্থীর ভোট করেছে। অপকর্মের কারণে ধলিয়ার বিএনপি নেতা কালামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি চেয়ারম্যান করবো কী করবো না সেটা জনগণের চাহিদার উপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, ‘আমি দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ যাবতীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। যারা এখন দলের নেতৃত্বে আছে তারা নিজাম হাজারী ও মাসুদ চৌধুরীর দোসর। জেলা বিএনপিও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তারা আমাকে গাড়িচাপা দিয়েও বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে। তাদের কেন্দ্রীয় বিশেষ ভাই রয়েছে। ফেনী জেলার সব দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব রহমান শামীম ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব। তারাই ফেনীর বিএনপি কন্ট্রোল করতেছে।’
পদত্যাগ ঘোষণার পর ফেনী পৌর যোগাযোগ নেতা রাসেল পাটোয়ারী খোলা কাগজকে বলেন, দলের কঠিন দুঃসময়ে রাজপথে যুবদলের নেতৃত্ব দিয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছিল জসিম চেয়ারম্যানদের মত দল পাগল লোকরা। আর দলের সু-সময় আসায় দলের অপ রাজনীতির শিকার হয়ে দল থেকে অব্যাহতি নিচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আমি এই দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার। তা না হলে দলের অনেক নির্যাতিত কর্মী এই দল থেকে হারিয়ে যাবে।
কেকে/ এমএস