বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪      ● বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী      ● দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে গতি আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৮২      ● মিরপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন      ● গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ      ● ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন      
দেশজুড়ে
দেড় মাসেই ধস কোটি টাকার বেড়িবাঁধে
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জিও ব্যাগ ও বেড়িবাঁধে দেড় মাসের মধ্যেই ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় নির্মিত বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এতে ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের কাজ করেছে। বাঁধ নির্মাণের সময় নদীর তীর থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটায় বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালুর পরিবর্তে নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে ফেলা হয়েছে। কাজ চলাকালেই এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি তাদের।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা হয়। এ প্রকল্পে চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স কাজটি বাস্তবায়ন করে। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

তবে গত ১ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই প্রায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ ও বেড়িবাঁধের অংশ নদীতে ধসে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। এতে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান ও মাছের ঘের।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর অভিযোগ করেন, প্রতি বছরই নামমাত্র বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। কাজের শুরুতেই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দেননি। এখন জিও ব্যাগ নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্সের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভাঙনের স্থানটি নদীর মোহনা হওয়ায় সেখানে বারবার ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের স্থানে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া ভাঙন ঠেকানো কঠিন।

অন্যদিকে, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল বাঁধের একটি অংশে ধসের পরিস্থিতি তৈরির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কারকাজ শেষ করা হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  নিম্নমানের নির্মাণ   বেড়িবাঁধ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close