গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা আগেই শুরু হয়েছে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী বুধবার বিকেল ৩টায় সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা এগিয়ে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সভার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
মজুরি বোর্ডের সচিবের স্বাক্ষরে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন।
সভায় সদস্যদের পরিচিতি, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়ন এবং বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরীর বড়বাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসন থানায় হামলার চেষ্টা করেন। থানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বড়বাড়ি এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গাজীপুরের ভোগড়া, নাওজোর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এসব ঘটনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
কেকে/সাশ