বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে      ● শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ৪ ঘণ্টা এগিয়ে শুরু মজুরি বোর্ডের সভা      ● গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বাসন থানার সামনে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ      ● মিরপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪      ● বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী      ● দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে গতি আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৮২      
দেশজুড়ে
নার্সের ওপর হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ পিএম

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রিমা আক্তারের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. কামরুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মতিন, সৈয়দা নাফিসা ইসলাম নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা রানী বর্মণ, সেবা তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুশ্রী সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ছয়-সাত মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কোথাও হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রিমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এতে চিকিৎসক-নার্সদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে।

তারা আরও বলেন, হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হলেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন, এমন নিশ্চয়তা বিশ্বের কোনো চিকিৎসাব্যবস্থায় নেই। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের জটিলতা ও চিকিৎসার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চিকিৎসক-নার্সদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা বলেন, নার্সদের ওপর এভাবে হামলা ও হয়রানি চলতে থাকলে এ পেশার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যেতে পারে। নার্সিং শিক্ষায় ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও সংকটে পড়তে পারে। তাই অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং রিমা আক্তারের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

হামলার শিকার নার্স রিমা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, রোগীকে হাসপাতালের ছয়তলার ৬০১ নম্বর ভিআইপি কেবিনে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে কলিং বেল পেয়ে কেবিনে গিয়ে রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখতে পান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে পালস অক্সিমিটারের মাধ্যমে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং নেবুলাইজেশন করা হয়। এরপর রোগী বমি করতে শুরু করলে বিষয়টি দ্রুত চিকিৎসককে জানানো হয়। চিকিৎসক এসে রোগীকে পরীক্ষা করেন। এর কিছুক্ষণ পরই রোগীর মৃত্যু হয়।

রিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর ইসিজি মেশিন আনার জন্য বলা হয়। মেশিন নিয়ে আসার পর চিকিৎসক নার্সিং স্টেশনে চলে যান। এ সময় রোগীর স্ত্রী হঠাৎ এসে তাকে মারধর শুরু করেন। আত্মরক্ষার জন্য সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে রোগীর এক স্বজন তার চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর কেবিনে উপস্থিত অন্যরাও তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে হাসপাতালের নিচ থেকে একজন নিরাপত্তাকর্মী এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

অন্যদিকে, নিহত রোগীর মেয়ের জামাই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি কেবিনের দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করি। কিন্তু হামলাকারীরা লাথি মেরে দরজা খুলে ফেলে। এরপর আমাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আমার শাশুড়ি আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাকে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর তাকে একের পর এক লাথি মারেন। স্বামী মারা যাওয়ার শোকের মুহূর্তে তার শরীরে এভাবে আঘাত করা কতটা অমানবিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের মিরারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রায়হান (৭৫) জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনদের হামলায় সিনিয়র স্টাফ নার্স রিমা আক্তার আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাজিতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close