জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেটের প্রভাবে দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক আওয়াল মাহমুদ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য রেশন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া বাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়াল মাহমুদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও বাংলাদেশে তা বেড়েছে। এর পেছনে জ্বালানি খাতের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় সরকার চাইলেও দ্রুত বিকল্প আমদানিকারক তৈরি করতে পারছে না। এই সুযোগে ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠী নিজেদের মুনাফা ও দাবি আদায়ে সরকারকে অনেকটা জিম্মি করে রেখেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলপিজির আমদানি ব্যয়, বাজারজাতকরণ খরচ এবং ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এতে ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মুনাফা পাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সহনীয় দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারবেন। জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে আওয়াল মাহমুদ বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে বাসাভাড়া ও পুষ্টিকর খাবারের খরচ মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে বিএনপি সরকারে না থাকায় শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছিল, বর্তমানে সরকারে এসে বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় যৌক্তিক মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য মালিকপক্ষ, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত মজুরি কমিশন বা কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য রেশন কার্ড, ভর্তুকিতে আবাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সরকারের ফ্যামিলি কার্ডকেও রেশন কার্ড হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা না করে এর যৌক্তিকতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব নয়। রপ্তানি ব্যাহত হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে যাবে। তাই শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
কেকে/ এসএমএন