কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কদমতলী মোহসেনিয়া কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কদমতলী মোহসেনিয়া মাদরাসালগ্ন মাঠ ও সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাওলানা মকবুল এলাহীর বক্তব্য ও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদরাসার মালিকানাধীন জমিতে ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের জেরে ইলিয়াছ মুন্সি, তার দুই ছেলে জহিরুল ইসলাম ও ইয়াছিন, জয়নালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা মকবুল এলাহীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে জহিরুল ইসলামের ঘুষিতে তার নিচের ঠোঁটের বাম পাশ কেটে রক্তক্ষরণ হয়। তাকে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জাকারিয়াকেও মারধর করা হয়। পাশাপাশি জমিতে রোপণ করা ১৭টি ফলদ গাছের চারাও উপড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত মকবুল এলাহী ও জাকারিয়াকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর রাতে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে থাকা আটটি গাছ কেটে ফেলা হয়। হামলার ঘটনার পর মামলা বা অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মকবুল এলাহী।
এদিকে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ফুটেজ প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিন্দা জানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।
মানববন্ধনে মাওলানা মকবুল এলাহী বলেন, হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও তার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনার সব প্রাসঙ্গিক আলামত যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
কেকে/ এসএমএন