গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তী সময়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর জিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী। তবে অভিযোগের প্রায় দেড় মাস পার হলেও তদন্ত শেষ হয়নি।
অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকাকালে একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে সেখানে যান তিনি। ওই সময় তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন ওসি। পরে নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তরুণীর অভিযোগ, সম্পর্কের সময় ইফতেখার নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। বিভিন্ন সময়ে বন্ধুর সোহেলের বাসায় নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরবর্তী সময়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান ওসি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হলে ওসির বাবা ফোন করে তরুণীর পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে অপমান করেন। এর প্রতিবাদ করায় ইফতেখার তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তরুণীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার তার বন্ধু সোহেল ও কথিত এক আত্মীয়কে ওই তরুণীর বাসায় পাঠান। তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে যান এবং ওসির সঙ্গে কথোপকথনের কল রেকর্ড ও মেসেজ মুছে দেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, ওসি ও তার সহযোগী সোহেলের কারণে তিনি এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় ফাসানো কিংবা বড় ধরনের ক্ষতি করার আশঙ্কা করছেন তিনি। এমনকি তার মা-বাবাকে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার বার্তা পাঠিয়ে বিয়ের সময় কিছু টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।
তরুণী বলেন, জিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাসা থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এসএমএন