গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির আবহে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া ফেরিঘাট এলাকা। প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপূজার মেলা উপলক্ষে নবগঙ্গা ও মধুমতী নদীর মিলনস্থলে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচে মাঝি-মাল্লাদের ছন্দময় বৈঠার টান, নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে বড়দিয়ায় ছুটে আসেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই উপভোগ করেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন।
নৌকাবাইচ দেখতে নড়াগাতী থেকে আসা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নৌকাবাইচ দেখার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। এটি তার পছন্দের আয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম।’
আরেক দর্শনার্থী আরমান হোসেন বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো অটুট রয়েছে।’ প্রতিযোগিতা উপভোগ করে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে প্রতিযোগিতায় মাত্র দুটি নৌকা অংশ নেওয়ায় কিছুটা আক্ষেপও ছিল তার। আরও দুই-তিনটি নৌকা অংশ নিলে আয়োজনটি বেশি উপভোগ্য হতো বলে মনে করেন তিনি।
মেলা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা ও খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বলেন, ‘বড়দিয়ায় লক্ষ্মীপূজার মেলা প্রায় ১২০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ। ভবিষ্যতেও এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বড়দিয়ার লক্ষ্মীপূজার মেলা কেবল ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে।’
আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে মেলা এবং নৌকাবাইচের মতো আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি এ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠু, নড়াগাতী থানা বিএনপির সভাপতি খান মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ বুলবুল কবিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
কেকে/ এসএমএন