সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম: ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল      হামের উপসর্গে আরও চার প্রাণহানি, মোট মৃত্যু সাড়ে ৬০০ ছাড়াল      জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের      ভেস্তে গেল অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন      বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ফ্রান্স      বেনজীর কীভাবে গ্রেপ্তার এবং সবশেষ কোথায় আছেন, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও মামলা তদন্তের সুযোগ বঞ্চিত পুলিশ সার্জেন্টরা
জাহিদ ইকবাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম আপডেট: ১৩.০৩.২০২৬ ৮:২৯ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বাংলাদেশ পুলিশের ‘দর্পণ’ হিসেবে পরিচিত নিরস্ত্র পুলিশ সার্জেন্টরা রাজপথে অপরাধ দমন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্মুখ সারির যোদ্ধা হলেও নিয়মিত মামলার তদন্তভার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই বা চোরাচালান রোধে সার্জেন্টরাই প্রথম রেসপন্সকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিআরবি বিধি ৭৩৯ (২) এবং ২০১৬ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সার্জেন্টরা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) সমান সিলেবাসে দীর্ঘ এক বছর মেয়াদী কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মামলার তদন্ত ও আইনের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করা। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে তারা এসআইয়ের সমমর্যাদায় পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর ৪৩, ৬৬, ৭২, ৭৫, ৮৪, ৮৭, ৮৯, ৯২ ও ৯৫ ধারায় সংঘটিত অপরাধগুলো সার্জেন্টরাই তদন্ত সাপেক্ষে বিচার-বিশ্লেষণ করে জরিমানা করে থাকেন। এছাড়া ওই আইনের ১১০ ধারায় তাদের বিনা পরোয়ানায় অপরাধী আটক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে, যা যেকোনো নিয়মিত ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়ার অনুরূপ। মূলত সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত করতে সার্জেন্টদের আইনগত কোনো বাধা নেই। কারণ, একই আইনের ১২০ ধারায় সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টর উভয়কেই আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সার্জেন্ট কর্তৃক তৈরিকৃত সিজার লিস্ট ও সুরতহাল রিপোর্ট আদালত কর্তৃক স্বীকৃত ও গৃহীত হয়ে আসছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ইতোমধ্যে টিডিএস ঢাকা থেকে ‘সায়েন্টিফিক ইনভেস্টিগেশন ফর রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট’ শীর্ষক বিশেষ কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন অনেক সার্জেন্ট। অতীতের বিভিন্ন স্মারক ও আদেশ (যেমন: ২০০৬ সালের ডিএমপি অধ্যাদেশ এবং ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবরের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের আদেশ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪(১)ঠ ধারা অনুযায়ী, তদন্তের অর্থ হলো পুলিশ অফিসার কর্তৃক সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা। পুলিশ আইন-১৮৬১’-এর ২৩ (৬) ধারা অনুযায়ী অপরাধের বৃত্তান্ত অনুসন্ধান ও আসামি গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো পুলিশের দায়িত্ব, যার মধ্যে তদন্তের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টর একই পদমর্যাদার, সেহেতু পিআরবি ২৫৮ বিধি অনুযায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চাইলে যেকোনো সার্জেন্টকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারেন।

আইনের কোথাও সার্জেন্টদের তদন্তে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং এসআই পদমর্যাদার নিচে নয়—এমন কর্মকর্তাদের তদন্তভার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে, সার্জেন্টদের তদন্ত ক্ষমতা দিলে সড়কে সংঘটিত অপরাধের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটিত হবে এবং থানা পুলিশের ওপর মামলার অতিরিক্ত চাপ কমবে। এতে প্রায় ২২০০ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ডিগ্রিধারী মেধাবী সার্জেন্টের মেধা ও যোগ্যতাকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। 

১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চাইলেই একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এই দায়িত্ব বণ্টন করতে পারেন। তাই, সার্বিক আইনি দিক বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লেখক : সংবাদকর্মী

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  দক্ষ   প্রশিক্ষিত হওয়া   মামলা তদন্তে   সুযোগ বঞ্চিত   পুলিশ সার্জেন্টরা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close