টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবানের জনজীবন। অব্যাহত বর্ষণে জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে, বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড় ধস ও বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
জেলা জুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের লামা, আলীকদম, রুমা ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন।
বান্দরবান শহরের বালাঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আরাফাত বলেন, টানা বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বান্দরবান প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, অব্যাহত বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় ২২০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি জানান, জেলা সদরে ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস