বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      ● স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এমপি মিষ্টি      ● ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      ● মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● যৌথবাহিনী নয়, সমন্বিত অভিযান জোরদার হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর, রিজার্ভ-রেমিট্যান্সে স্বস্তি       ● প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে       
দেশজুড়ে
মধুপুরের শালবন হারাচ্ছে অস্তিত্ব, বনভূমি পরিণত হচ্ছে বাণিজ্যিক বাগানে
জহিরুল ইসলাম মিলন, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দেশের অন্যতম বৃহৎ শালবন মধুপুর বনাঞ্চল দিন দিন হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। বনভূমির বড় অংশ দখল হয়ে গড়ে উঠেছে কলা, আনারস, আদা ও পেঁপের বাণিজ্যিক বাগান। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাবার চাষ, বসতি সম্প্রসারণ এবং বন উজাড়ের কারণে সংকুচিত হচ্ছে প্রাকৃতিক বন, কমে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

মধুপুরের গজারি বনভেদ করে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশ সবুজে ঘেরা মনে হলেও ভেতরে প্রবেশ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বনভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আর প্রাকৃতিক শালবনের অস্তিত্ব নেই। বনভূমির জায়গায় গড়ে উঠেছে কৃষিজমি, বাণিজ্যিক বাগান ও বসতি।

মধুপুর উপজেলার পঁচিশমাইল থেকে কাইলাকুড়ী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখে পড়ে আনারস ও কলার বাগান। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশক আগেও এসব জমি বন বিভাগের আওতায় ছিল। বর্তমানে এসব এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি, কৃষিকাজ এবং বাজার গড়ে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর বনাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে বর্তমানে ৫৮টি বিদ্যালয়, ৩৮টি মাদ্রাসা, প্রায় ৪০টি বাজার এবং এক লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ জমিই বন বিভাগের মালিকানাধীন।

তবে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলা-রসুলপুর অংশে এখনো কিছু প্রাকৃতিক শালবনের অস্তিত্ব টিকে আছে। এখানে শাল, বাঁশ, বেতসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং কিছু বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। লহরিয়া হরিণ প্রজননকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি হরিণ রয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর জাতীয় উদ্যান ৪ প্রজাতির উভচর, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০৪ প্রজাতির পাখি এবং ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল। বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মুখপোড়া হনুমানও এই বনাঞ্চলে বসবাস করে।

বন বিশেষজ্ঞদের মতে, আশির দশকে প্রাকৃতিক শালগাছের পরিবর্তে বিদেশি প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া রোপণ এবং পরে রাবার বাগান সম্প্রসারণের ফলে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সেইসব এলাকাতেও কৃষিজমি ও বাণিজ্যিক বাগান বিস্তার লাভ করেছে।

টাঙ্গাইল বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আয়তনের দিক থেকে সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলের পর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শালবন মধুপুর। প্রায় ৪৫ হাজার একর আয়তনের এই বনাঞ্চলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র প্রায় ৯ হাজার একর এলাকায় প্রাকৃতিক বন টিকে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close