বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৮৩      পদত্যাগের শেষ মুহূর্তেও আন্দোলনের পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন হাসিনা      জুলাই জাদুঘর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণার কেন্দ্র : ড. ইউনূস      জ্বালানি সংকটে ভুগবে সরকার      ফ্যাসিস্ট পতনের দুই বছর      এবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র      আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উত্থান : বাংলাদেশের শিক্ষণীয়
অভিজিৎ বড়ুয়া অভি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি ঋণদাতা সংস্থা, বহু প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট ছিল শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা-পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। তখন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলায় শ্রীলঙ্কার সামনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। 

দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, তার সঙ্গে বাহ্যিক সমস্যা এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত ভুল পদক্ষেপের প্রভাবে দেশটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ধসের মুখে পড়েছিল। দেশটির অর্থনীতি ৭.৩ শতাংশ সংকুচিত হয়, মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। মুদ্রার মান দ্রুত হ্রাস পায় এবং ঋণের অনুপাত বৃদ্ধি পায়। জ্বালানি সংগ্রহের জন্য জনগণের দীর্ঘ লাইন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল দৈনন্দিন জীবনের চিত্র।

কিন্তু সেই শ্রীলঙ্কায় ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে আর্থিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে। সরকার সামগ্রিক বাজেটে ১৯৭.৩৪ বিলিয়ন রুপি উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ২৩৬.৬৩ বিলিয়ন রুপির ঘাটতি থেকে একটি বড় উত্তরণ; কারণ ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। 

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মে সময়ে মোট রাজস্ব ও অনুদান আগের বছরের ১.৯৪ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে ৩০.৬ শতাংশ বেড়ে ২.৫৪ ট্রিলিয়ন রুপিতে দাঁড়িয়েছে। সরকারি আয়ের প্রধান উৎস কর-রাজস্ব আগের বছরের (২০২৫) একই সময়ের ১.৮ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে ২৩.৯ শতাংশ বেড়ে ২.৩২ ট্রিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়েছে। করবহির্ভূত রাজস্ব আয়ে আরও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে-এটি ১৩৭.৩৮ বিলিয়ন রুপি থেকে ৫৪.২ শতাংশ বেড়ে ২১১.৮৪ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে; তবে অনুদানের পরিমাণ ২.৪৯ বিলিয়ন রুপি থেকে কমে ১.৩৪ বিলিয়ন রুপিতে নেমে এসেছে। 

অন্যদিকে, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ব্যয়সংক্রান্ত শৃঙ্খলা বজায় থাকার ফলে ব্যয় এবং ঋণ প্রদান (ঋণ পরিশোধ বাদে) ৭.৩ শতাংশ বেড়ে ২.১৮ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে ২.৩৪ ট্রিলিয়ন রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পরিচালন ব্যয় ৫.৫ শতাংশ বেড়ে ২.১১ ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, মূলধনী ব্যয় এবং ঋণ প্রদান (ঋণ পরিশোধ বাদে) গত বছরের একই সময়ের ১৭৫.৩৭ বিলিয়ন রুপি থেকে ২৯.৩ শতাংশ বেড়ে ২২৬.৮৩ বিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়েছে।

এর পেছনের কারণ হলো, শ্রীলঙ্কা ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিল। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে মুদ্রানীতি ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা আরোপ করেছিল। সরকার ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে, রাজস্বভিত্তিক আর্থিক সংহতি কর্মসূচি চালু করে, অপ্রয়োজনীয় আমদানি ও ব্যয় হ্রাস করে এবং ঋণ পুনর্গঠনের একটি জটিল প্রক্রিয়া শুরু করে। 

একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার বা অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ার কঠোর প্রভাব থেকে জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে। দুর্নীতিকে সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে শ্রীলঙ্কা আইএমএফ-এর প্রথম ‘গভর্ন্যান্স ডায়াগনস্টিক’ বা সুশাসনবিষয়ক পর্যালোচনা কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানায়, যা ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। ফলে ২০২৪ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় ফেরে এবং অর্থনীতি প্রায় ৫ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হয়। 

মুদ্রাস্ফীতি দশ মাসের মধ্যেই একক অঙ্কের ঘরে নেমে আসে এবং স্বল্পমেয়াদি ‘ডিফ্লেশন’ বা মূল্যস্তর হ্রাসের পর তা ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যায়। সুদের হার কমে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ পুনরায় শুরু হয় এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হারে অধিকতর স্থিতিশীলতা আসে। পর্যটন খাত অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এবং প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কেনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন করে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খলতা বা ‘ফিসকাল কনসোলিডেশন’ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়। ফলে রাজস্ব আয় জিডিপির ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বাজেট ঘাটতির পরিবর্তে প্রাথমিক উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুফল মানুষের জীবনে যেন অনুভূত হয়, তাই দেশটি একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কারণ আগামী বছরগুলোতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘মানসম্মত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান’ নিশ্চিত করা। আগামী দশকে শ্রীলঙ্কার আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে প্রায় ১০ লাখ তরুণ আসবে। কিন্তু বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে মাত্র ৩ লাখের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর অর্থ হলো, প্রতি ১০ জন তরুণের মধ্যে প্রায় ৭ জনই মানসম্মত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণেই শ্রীলঙ্কা কেবল স্থিতিশীলতানির্ভর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিচালিত পুনরুদ্ধারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি, জ্বালানি ও বন্দরের মতো শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা যা শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক এবং পর্যটন ও কৃষি-ব্যবসার মতো অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতগুলোতে মনোযোগ, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মতো সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে। 

এ ছাড়া দেশটি মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করছে, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সব ধরনের সহায়তা ও কৌশল কাজে লাগাচ্ছে। এর আওতায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থায়ন এবং আরও প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

দেশটির জন্য প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিয়োগের অর্থায়নের জন্য শুধু শ্রীলঙ্কার নিজস্ব পুঁজি যথেষ্ট নয়। দেশটির নীতিনির্ধারকরা এটা বুঝতে পেরেছেন যে, এফডিআই মানে শুধু অর্থ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ। এটি অত্যাধুনিক উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে আসে, যা অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করে এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই শ্রীলঙ্কা এখন জোর দিচ্ছে ব্যবসায়িক খরচ কমানো, বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করা, রপ্তানিমুখী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের (মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল) সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে। এর অর্থ হলো-শুল্ক কাঠামো সহজ করা ও প্যারা-ট্যারিফ (অতিরিক্ত শুল্ক) কমানো, কাস্টমস ও বাণিজ্য প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার খরচ হ্রাস, শ্রমবাজারকে আরও নমনীয় করা, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করা, বিশেষ করে এসএমইগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত অনুমোদন ও নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি অধিকতর পূর্বাভাসযোগ্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গড়ে তোলা।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের চারটি খাতে প্রবল আগ্রহ রয়েছে : নবায়নযোগ্য শক্তি, পর্যটন, কৃষি-ব্যবসা (অ্যাগ্রি-বিজনেস) এবং লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা। এসব ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে এবং এখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনগুলো-যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন-পূরণ করা সম্ভব। এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এ খাতগুলো এবং নতুন ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’-এও এগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শক্তি বা জ্বালানি খাতের বিষয়টিকে শ্রীলঙ্কার নীতিনির্ধারকরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ ২০২২ সালে তারা বুঝেছিলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা প্রকৃত অর্থনৈতিক ঝুঁকি বয়ে আনে। তাই দেশটি সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা বৈশ্বিক পুঁজি বা বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপন করছে। এ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য শ্রীলঙ্কা সুপরিকল্পিত প্রকল্পের তালিকা (পাইপলাইন), বড় পরিসরের কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোগাতে পারে, তা প্রণয়ন করছে। এসব বিষয় সঠিকভাবে নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতটি শ্রীলঙ্কার অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক দুর্বলতা থেকে সরে এসে বিনিয়োগের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হবে।

শ্রীলঙ্কার নীতিনির্ধারকরা বুঝেছেন যে, কৃষি-ব্যবসা বা অ্যাগ্রি-বিজনেস হলো বিপুল সম্ভাবনাময় আরেকটি খাত। চা ও দারুচিনির মতো প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি উচ্চ-মূল্যের বিভিন্ন কৃষি-পণ্য উৎপাদনে শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাই তারা ‘ভ্যালু চেইন’ বা মূল্য-শৃঙ্খলের উচ্চতর ধাপে উন্নীত হওয়া, অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পণ্যের মান ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করছে। কারণ সঠিক পুঁজি ও সহায়তা পেলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে পারে, ক্ষুদ্র কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।

পর্যটন খাতও শ্রীলঙ্কার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করেন; এখানে সাফল্য নির্ভর করে পর্যটকদের সংখ্যার চেয়ে সেবার মানের ওপর। কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী স্থান, শহরের জলাভূমি এবং বিশেষায়িত পর্যটন খাত, যেমন মাইস (সভা, সম্মেলন ও প্রদর্শনী), সুস্থতা ও খাদ্যকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাই দেশটি ‘থ্রাইভ’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। এর আওতায় রয়েছে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল এবং নতুন সব পর্যটন পণ্য, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়তা করবে। লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা খাতকেও নীতিনির্ধারকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌ-পথগুলোর সংযোগস্থলে শ্রীলঙ্কার অবস্থান এমন এক প্রাকৃতিক সুবিধা, যা খুব কম দেশেরই রয়েছে। এ সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে দেশটি দক্ষ বন্দর এবং সেগুলোকে কেন্দ্র করে বাড়তি সুবিধাযুক্ত সেবা বা ‘ভ্যালু-অ্যাডেড সার্ভিস’ চালু করছে। শ্রীলঙ্কার নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বিনিয়োগের পরবর্তী বড় ঢেউটি এই খাতেই আসবে।

দেশটি বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচির কঠোর লক্ষ্যমাত্রাগুলো পূরণ করেছে এবং এমন সব সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে যা একসময় অনেক পর্যবেক্ষকের কাছে রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল। এ সাফল্য আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করেছে, যা সংকটকালীন বছরগুলোতে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর পরিস্থিতি থেকে এক উল্লেখযোগ্য উত্তরণ। সামষ্টিক অর্থনীতির বিচারে শ্রীলঙ্কা যে স্থিতিশীল হয়েছে, তা স্পষ্ট। বস্তুত, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে দেশটি অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অভিজিৎ বড়ুয়া অভি   শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উত্থান   বাংলাদেশের শিক্ষণীয়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close