‘মেয়েটাকে বাঁচাতে চাই, কিন্তু চিকিৎসার টাকা কোথায় পাবো জানি না।’ চার মাস বয়সী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে এমনই অসহায় আকুতি অটোরিকশাচালক মো. রকিবুল ইসলামের। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের একমাত্র আয়ের অবলম্বন অটোরিকশাও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এখন শিশুটির অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা।
মো. রবিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। পরিবারের ছোট মেয়ে চার মাস বয়সী। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল শিশুটি। একপর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, তার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।
মেয়ের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে থাকেন রবিকুল ও তার স্ত্রী লাখি আক্তার। সন্তানের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমানো টাকা শেষ হওয়ার পর ধারদেনা ও বিভিন্নভাবে অর্থ জোগাড় করে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিজের অটোরিকশাটিও বিক্রি করে দেন রবিকুল।
রবিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের চার মাস বয়স। আমার মেয়েটার ব্রেন টিউমার। অনেক দৌড়াদৌড়ি করছি, অনেক মেডিকেলে গেছি। যা পুঁজি-টাকা আছিল, সব শেষ কইরা চিকিৎসা মিলছে। কিন্তু এখন টাকা পাচ্ছি না। অটোগাড়ি চালাইতাম, মেয়ের চিকিৎসার জন্য গাড়িটাও বিক্রি করে দিছি।”
তিনি জানান, অটোরিকশা বিক্রি করে দেওয়ার পর এখন আর নিয়মিত কোনো আয় নেই। যে কাজ পান, সেটিই করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে পারেননি। চিকিৎসকেরা দ্রুত শিশুটির অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন।
শিশুটির মা লাখি আক্তারের চোখে-মুখেও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। তিনি বলেন, একজন মা হিসেবে সন্তানের কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারছেন না। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
লাখি আক্তার জানান, মেয়ের চিকিৎসায় এরই মধ্যে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন চিকিৎসকেরা অপারেশনের কথা বলেছেন। কিন্তু পরিবারের হাতে কোনো অর্থ না থাকায় সেই চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শুধু মেয়ের অসুস্থতাই নয়, পরিবারটির ওপর রয়েছে আরও এক দুশ্চিন্তা। রবিকুল ইসলাম নিজেও গত তিন মাস ধরে পেটের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। একদিকে নিজের অসুস্থতা, অন্যদিকে চার মাসের শিশুর ব্যয়বহুল চিকিৎসা, সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। তাদের সংসারে মোট তিনটি মেয়ে; অসুস্থ শিশুটিই সবার ছোট।
রবিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার মেয়েটা যেন সুস্থ থাকে। অনেক জায়গায় গেছি, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাই নাই। যত মন্ত্রী-মিনিস্টার, যত নেতা আছেন, সবাই মিলে আমার মেয়েটারে বাঁচান।”
মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আশায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই অটোরিকশাচালক বাবা। তার একটাই চাওয়া, অর্থের অভাবে যেন চার মাসের শিশুটির চিকিৎসা থেমে না যায়।
অসহায় এই পরিবারটি শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে। পরিবারের আশা, মানুষের সম্মিলিত সহায়তায় দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে শিশুটির চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
কেকে/সাশ