বিশ্বে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মৎস্য চাষ ও আহরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বাড়ানো সম্ভব।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্য পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মৎস্য চাষ ও আহরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, “মৎস্য উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানেন, মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০ ঘেরে উৎপাদন গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।”
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৭ হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম্প সিটি মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
চিংড়ির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলিশ শুধু বাংলাদেশের জাতীয় মাছ বা অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ এবং দেশের জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশেরও বেশি। ২০০৩-০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই পরিকল্পনার ফলে সারাদেশে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার টন। এ ক্ষেত্রে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মাছ আহরণের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিশোরগঞ্জে এটি তাঁর প্রথম সফর।
এবারের জাতীয় মৎস্য পক্ষের প্রতিপাদ্য—‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। সারাদেশে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কেকে/সাশ