ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ বর্তমানে কচুরিপানায় সয়লাব। নাব্য ও স্রোতধারা না থাকায় কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে গেছে কয়েক কিলোমিটার নদ। কচুরিপানার আগ্রাসনে নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের স্বচ্ছ জলধারা ও মনোরম সৌন্দর্যে ভরপুর এ নদ বর্তমানে ঘন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে ঐতিহ্য সংকটে পড়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎপত্তি। এটি ফরিদপুর শহরের মধ্যদিয়ে সালথা উপজেলা সদরের পাশদিয়ে বোয়ালমারীর নতুবদিয়া এবং উপজেলার ভাওয়াল বাজার ও মাঝারদিয়া বাজারের পাশদিয়ে নগরকান্দা উপজেলা হয়ে ১২১ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আড়িয়াল খাঁ ও মধুমতি নদীর সংযোগ খাল বিলরুট ক্যানেলে গিয়ে শেষ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কচুরিপানার বিস্তারের ফলে নদীর পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশ করছে না। এতে পানির গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে নদীভিত্তিক যোগাযোগ ও স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে নদীতে থাকা কচুরিপানাগুলো দ্রুত পরিষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে সহজেই নদের নাব্য ফিরে আসবে। আর তা না হলে কচুরিপানার বিস্তার আরও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে অপসারণে অধিক অর্থ ও শ্রমের প্রয়োজন হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কুমার নদ শুধু একটি নদী নয়, এটি পরিবেশ, অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীকে রক্ষা করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে কুমার নদকে তার হারানো যৌবন ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে কুমার নদ আবারও ফিরে পাবে তার স্বচ্ছতা, প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আর মানুষ ফিরে পাবে তাদের প্রিয় নদকে।
এলাকাবাসীর দাবি, ‘কুমার নদকে বাঁচান, কচুরিপানা পরিষ্কার করুন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনুন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ‘সালথা কুমার নদের উপর বাঁশের সাঁকো থাকায় কচুরিপানা আটকে গিয়ে নদ ভরে গেছে। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সবাইকে নিয়ে কুমার নদের কচুরিপানা পরিস্কার করার উদ্যেগ গ্রহণ করবো।’
কেকে/এআই