রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: বঙ্গভবনে উঠেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি      নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      
দেশজুড়ে
কসবায় তিন যুগেও হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:০১ পিএম আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ১:০২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বর্ষায় পানিতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা বিজনা নদী। সেই নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি সরু একটি সাঁকো। প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন কসবা পৌরসভার শত শত মানুষ। প্রায় তিন যুগ ধরে এই সাঁকোই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের কাছে আড়াইবাড়ির এই জনবসতি ‘গাঙের পাড়’ নামে পরিচিত।

গাঙের পাড়ের শিশু, বৃদ্ধ, নারী, অসুস্থ রোগীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে পারাপার হন। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কারও মাথায় কৃষিপণ্যের বোঝা। আবার কেউ স্কুলের পোশাক পরে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে এটাই যেন প্রতিদিনের বাস্তবতা।

আড়াইবাড়ির গাঙের পাড় ও গুরুহিত গ্রামের মাঝখানে বিজনা নদী পারাপারের এটিই একমাত্র পথ। এই সাঁকো দিয়েই স্থানীয়দের কসবা উপজেলা সদর ও আশপাশের গ্রামে যেতে হয়। প্রায় তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও নদীর ওপর এই জনবসতির মানুষের জন্য নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু।

স্থানীয়রা জানান, সরু সাঁকোটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিকল্প পথে ফসলি জমির ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে প্রায় আধা ঘণ্টা বেশি সময় লাগে। বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সেই পথও ব্যবহার করা যায় না। ফলে ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা সদরে যাতায়াতেও দুর্ভোগ কমবে। কৃষকেরা দ্রুত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে রোগী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের চলাচলের সমস্যাও দূর হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পানির স্রোতে বাঁশ নড়ে যায়, কখনো ভেঙেও যায়। তখন শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের পারাপার করাতে পরিবারের সদস্যদের চরম আতঙ্কে থাকতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত দুইবার উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা এলাকায় এসে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয় না।

গাঙের পাড়ের বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, “এখানে প্রায় ৩০টি পরিবারে দুই শতাধিক মানুষের বসবাস। আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছি। স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিশুদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলে নদীতে পানির স্রোত বেড়ে যায়। তখন সাঁকো পার হতে গিয়ে কেউ পড়ে গেলে স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরকম দু-একটি দুর্ঘটনাও এখানে ঘটেছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রায় চার বছর আগে এখানে একটি সেতু নির্মাণের কথা হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেটি হয়নি। আমরা পুনরায় আবেদন করেছি। নেতারা ভোটের সময় এসে শুধু ভোট দিতে বলেন, কিন্তু ভোটের পর আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা চাই, দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”

গাঙের পাড়ের বাসিন্দা শাহআলম বলেন, “এখানে অনেক মা-বোন আছেন, যাদের ছোট বাচ্চা নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়েই তাদের সাঁকো পার হতে হয়। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো ফল পাইনি। কিছুদিন পরপর সংশ্লিষ্টরা এসে পরিদর্শন করেন, ছবি তোলেন, এরপর চলে যান। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “গাঙের পাড়ের মানুষের পারাপারের জন্য চার-পাঁচ বছর আগে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা এসে জায়গাটি পরিদর্শন করে মাটিও পরীক্ষা করে গেছেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবেদনটি গ্রহণ করেননি। চলতি বছরের ১৬ মার্চ আমরা পুনরায় আবেদন করি। আবেদন করার পর থেকে আজ পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি।”

এ বিষয়ে জানতে কসবা উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলামের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ফোন করলে প্রথমবার কল রিসিভ করলেও পরবর্তী সময়ে কল কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম বলেন, “উল্লিখিত এলাকায় যদি কোনো সাঁকো থাকে এবং লোকজনের চলাচলে কষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে উপজেলা ও পৌরসভার প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সেখানে পরিদর্শন করব। সেখানে সেতুর প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এবার বিজনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেতুটি নির্মাণ হলে গাঙের পাড় ও গুরুহিত গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার জীবনযাত্রা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিন যুগ ধরে বাঁশের সাঁকোই যাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা, সেই মানুষগুলোর এখন একটাই দাবি—বিজনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু। বর্ষার স্রোতের সঙ্গে প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান চান তারা।


কেকে/সাশ 






আরও সংবাদ   বিষয়:  কসবা   বাঁশের সাঁকো   ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close