রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা      সাংবিধানিক নিয়মেই হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী      বঙ্গভবনে উঠেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি      নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
বোরকা গায়ে ঝুপড়ি ঘরে রহস্যময়ী নারী
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ৩:৫৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দীর্ঘ পনের বছর ধরে ঘর থেকে একবারের জন্যও বের হননি। কারও সঙ্গে একটি কথাও বলেননি। জরাজীর্ণ একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বোরকা গায়ে জড়িয়ে দিনের পর দিন অবস্থান করছেন তিনি। গোসল কিংবা প্রকৃতির প্রয়োজন কীভাবে ও কোথায় সারেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই পরিবারের সদস্য বা স্থানীয়দের কাছে। এমনই এক রহস্যময় নারীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের নাচনাপাড়া এলাকায় বাস করা এ নারীর নাম সালেহা বেগম (৬০)। স্বামী আবুল কালামের মৃত্যুর পর প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি একই ঘরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সালেহা বেগম যে ঘরে বসবাস করছেন সেটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এক দশক আগে ঘরটি হেলে পড়েছে। চারপাশে জমে থাকা নর্দমার দুর্গন্ধযুক্ত পানি এবং বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশে ঘরটিতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা খুবই কঠিন। ঘরটির অবস্থা দেখে মনে হয় যেকোনো সময় এটি ধসে পড়বে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সালেহা বেগম একদিনের জন্যও ঘরের বাইরে বের হননি। কারও সঙ্গে একটি কথাও বলেননি। সব সময় বোরকা ও কাপড় শরীর জড়িয়ে ঘরের ভেতর অবস্থান করেন।

সালেহা বেগমের মেয়ে লাকী বেগম জানান, তিন বছর আগে তার ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও মায়ের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। প্রতিদিন তিনি মায়ের জন্য খাবার দিয়ে আসেন। তবে অনেক সময় সেই খাবার ফিরিয়ে দেন সালেহা বেগম। তিনি নিজেও চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। 

পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে মায়ের চিকিৎসা, ভাইয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং নতুন করে একটি বসতঘর নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সালেহা বেগমকে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আওতায় নিয়ে আসবো। এছাড়া সালেহা বেগমসহ তার পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম জানান, সালেহা বেগমের বসত ঘর সরেজমিনে দেখেছি। তার জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার বা নতুনভাবে বসবাসের উপযোগী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সালেহা বেগমের ঘটনাটি একটি বিরল ঘটনা। সালেহা বেগমকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় এনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যান্সার আক্রান্ত তার ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঝুপড়ি ঘর   রহস্যময়ী নারী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close