কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সজল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে।
আটক সজল উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের জব্বার মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, উপজেলার বাগপাড়া গ্রামের জঙ্গলে কিশোরীকে নিয়ে যায় সজল। সেখানে কিশোরীর ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় কিশোরীর এক স্বজন ঘটনাটি দেখে ফেলেন এবং চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সজলকে আটক করেন। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর সজলের মেয়ের জামাই ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশে গ্রামের মুরুব্বি আনসার আলীকে সভাপতি করা হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ পর্যালোচনা করে সালিশকারীরা দাবি করেন, সজল ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে এক স্বজন ঘটনাটি দেখে ফেলায় তা সম্ভব হয়নি বলে সালিশে উল্লেখ করা হয়। সালিশে সজলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। তবে জরিমানার টাকা সালিশে পরিশোধ করা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান। এর প্রায় তিন বছর পর মারা যান তার মা। বর্তমানে বাবা-মা হারা ওই কিশোরী বড় বোনের সঙ্গে বসবাস করছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য জুনায়েদ তুর্য বলেন, ‘তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি এলাকাবাসীকে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন।’
তবে এভাবে সালিশ করার বিষয়টি তার ভালো লাগেনি বলেও জানান তিনি।
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে ঘটনাটি জানতে পারি। বর্তমান ওয়ার্ড সদস্য ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে সালিশ করেছেন।’
বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর দ্রুত অভিযুক্ত যুবককে আটক করায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় সালিশে মীমাংসার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ কোনোভাবেই সালিশে মীমাংসার বিষয় নয়। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে, এতে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে এটি ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে একজন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে নিয়ে অভিযোগ হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। আমরা চাই, ভুক্তভোগী যেন ন্যায়বিচার পান।’
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর রাতেই অভিযুক্ত সজলকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
কেকে/এআই