রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল      ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা      সাংবিধানিক নিয়মেই হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী      বঙ্গভবনে উঠেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি      নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      
দেশজুড়ে
আদিতমারীতে আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় বিধানের মৃত্যুদণ্ড
আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী রায় হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হত্যায় সহায়তা ও লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে বিধানের বাবা রনজিত কুমার বর্মণ ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

মাত্র দুই মাস আট দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে এ রায় দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় আসামি বিধান চন্দ্র, তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা।

নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মণ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। রায় ঘোষণার পর মামলাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী নন্দিনী রায়। পরিবার ও স্থানীয়রা সারারাত খোঁজাখুঁজির পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ করেন। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলায় আরও জানা যায়, পূর্বের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে শিশু নন্দিনীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিধান রায়কে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র রায়। মামলার অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসে, দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নিহত নন্দিনীর স্বজনেরা।

রায় ঘোষণা শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। রায়ে আদালত প্রধান আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন। বিধান চন্দ্রের মা-বাবা লাশ গুম করতে সহযোগিতা করায় তাঁদের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর দুই আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত মামলার সার্বিক তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে আলোচিত এ ঘটনার রায় পেয়েছি।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close