গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আতাউর রহমান আতা মিয়াকে (৬০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে করেছে পিবিআই। আসামিদেরকে আদালতে উঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালার বাজার গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) ও একই উপজেলার মির্জানগর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আতাউর রহমান। ওইদিন রাত ৮টার আগে কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও এলাকায় একটি নির্জন কলাবাগানে অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা তাকে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে তার মা জহুরা খাতুন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গাজীপুর পিবিআই তদন্তে নামে। তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে কাপাসিয়ার চালাবাজার ও নরোত্তমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। চোরাই অটোরিকশা কেনার অপরাধে কিবরিয়া (৪২) এক দোকানদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দিতে জানায়, তারা ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। আসামী নকিবুল চালক আতাউর রহমান আতা মিয়ার দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাকে খুব সহজেই ‘টার্গেট’ করে তারা। ঘটনার দিন কৌশলে আতা মিয়াকে নির্জন স্থানে ডেকে নেয় তারা। সেখানে রড, হাতুড়ি দিয়েমাথায় আঘাত করে এবং গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। পরে অটোরিকশা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং অটোরিকশা বিক্রির নগদ ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রকিবুল আক্তার বলেন, ‘একজন নিরীহ চালককে হত্যা এবং তার পর মুহূর্তেই মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। অপরাধীরা ভেবেছিল নির্জন স্থানে এ ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে যাবে। পিবিআইর দ্রুততম সময়ে আসামিদের ধরতে সক্ষম হয়েছে। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতে দ্রুততম সময়ে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করা হবে।’
কেকে/এআই