কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রি, পণ্যের গায়ে লেবেল ও মূল্য না থাকা এবং অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বেকারি, খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও মুদির দোকানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেকারি পণ্যে অনুমোদনহীন রং, হাইড্রোজ ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, পণ্যের গায়ে লেবেলে মূল্য উল্লেখ না থাকা এবং অনুমোদনহীন পণ্য রাখা ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধ পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে—পৌরসভার মগবাজারের স্টার ব্রেড বেকারি ৮ হাজার টাকা, উপজেলা ভূমি অফিস সেন্টারের নবাব বাড়ির মাংসের দোকান ৩ হাজার টাকা, পৌরশহরের চিরিঙ্গা হাশেম মার্কেটের বোরহান স্টোর ২০ হাজার টাকা, চিরিঙ্গা বায়তুশ শরফ রোডের আল মদিনা হোটেল ১০ হাজার টাকা এবং পৌরশহরের মিষ্টির দোকান পিউরিয়া ৩০ হাজার টাকা।
অভিযানের সময় উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা হায়দার আলী, চকরিয়া থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) জুয়েল বড়ুয়াসহ পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চকরিয়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বিক্রি, পণ্যের গায়ে লেবেলে মূল্য না থাকা, ভেজাল ও অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধ পাওয়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই অপরাধ পুনরায় না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’
তিনি জানান, জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কেকে/ এমএস